‘ঈমান, ইবাদাত, মুআমালাত ঠিক থাকলেই মুমিনের বিজয়’

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম (নয়াদিল্লি) : ‘ইসলাহে মুআশারাহ’ বা লেনদেনে স্বচ্ছতা মানব জীবনে এর গুরুত্ব কী এবং তা কীভাবে হওয়া উচিৎ। জানিয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের চেয়ারম্যান মাওলানা সাইয়্যেদ আরশাদ মাদানী। তিনি ভারতের নওয়াবগঞ্জে আজাদ মার্কেট আয়োজিত এক জলাসায় ‘ইসলাহে মুআশাহার’- ও সংক্রান্ত বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নসীহত পেশ করেছেন।

মাওলানা আরশাদ মাদানীর আগমন উপলক্ষে আশেপাশের এলাকাগুলোয় সাড়া পড়ে যায়। বিপুল পরিমাণ মানুষের সমাগম হয় মসজিদে। পুরো অনুষ্ঠানস্থল কানায় কানায় ভরে যায়। সেখানে উপস্থিত শ্রোতাদের উদ্দেশে দীর্ঘ সময় বক্তব্য রাখেন তিনি।

তিনি তার বক্তব্যে মুসলমানদের লেনদেন ঠিক রাখার প্রতি জোর পরামর্শ দিয়েছেন। এবং কুরআনে কারীমের আয়াত ‘ওয়লুল্লিল মুতাফফিফিন’ এর তরজমা করে এর ব্যাখ্যা আলোচনা করে বলেন, যে ব্যক্তি কারো অধিকার আদায়ে গড়িমশি করে এবং তা নষ্ট করে, সে অনেক বড় গুনাহগার হিসেবে সাব্যস্ত হবে। এমন ব্যক্তিকে আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই পাকড়াও করবেন৷

তিনি আরো বলেন, এখন তো আমাদের অবস্থা হলো এমন যে, যখন নিজের হক বা অধিকারের ব্যাপার আসে তখন তা পুরোপুরি আদায় করে নিই। কিন্তু যখন নিজের থেকে তা অন্যকে দেয়ার বিষয় আসে তখন তাতে কম করে ফেলি। তা আদায় করি না বা করলেও চিন্তা থাকে কীভাবে তাকে ঠকানো যায়। কম অংশ দেয়া যায়। তো আল্লাহ তায়ালা এই ব্যক্তির জন্যই জাহান্নামে একটি রশি প্রস্তুত করে রেখেছেন। যার নাম ‘ওইল’। এই বিশেষ রশি এরকম ব্যক্তিদের জন্যই প্রস্তুতকৃত। তো এজন্যই উচিৎ হলো মুসলমান তাদের লেনদেন, আচার-ব্যবহার, কেনাবেচা এবং সর্বপ্রকার আদান প্রদানেই স্বচ্ছতা অবলম্বন করবে। সুন্দর আচরণ ও লেনদেনে কখনোই কারো সঙ্গে কোনরকমের শঠতা করবে না।

আমানত বা গচ্ছিত সম্পদকে তার মালিকের কাছে পৌঁছে দেয়ার কথা উল্লেখ করে মাওলানা আরশাদ মাদানী বলেন, আমানত তার মালিকের কাছে সেভাবেই ফিরিয়ে দাও, যেভাবে তার মালিক তোমার কাছে তা গচ্ছিত রেখেছিল। আল্লাহ তায়ালার আদেশ হলো- ভিন্ন ধর্ম বা অন্য মাযহাবের ও যদি কেউ হয়, হোক সে কাফের বা মুশরিক তার সম্পদ ও তাকে পুনঃ পুনঃ পৌঁছে দেয়া ওয়াজিব। এটা ইসলাম ধর্মের একটি অন্যতম শিক্ষা।

তিনি উপস্থিত শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে গুরুত্ব প্রকাশ করে বলেন, তিনটি জিনিস ইসলামে অনেক বেশি গুরুত্ব বহন করে। তা হলো- ১. ঈমান ২. ইবাদাত, লেনদেন ও আচার-ব্যবহার। প্রত্যেক মুসলমানের উচিত এ তিনটি বিষয়ে পরিপূর্ণ খেয়াল রাখা৷ এ বিষয়গুলোতে সচেতন হয়ে তা নিজেদের জীবনে প্রয়োগ করা৷

এসময় জমিয়তের চেয়ারম্যান খুব গর্বের সাথে বলেন, কিছুদিন আগে কেরালার ভয়াবহ বন্যায় যে বিপুল পরিমাণ মানুষ বিপর্যস্ত হয়েছে। তাদের জীবনের গতি ব্যাহত হয়েছে। আফসোস সেখানে সরকার ও রাষ্ট্র কোনপ্রকার সহায়তা করেনি তাদের। কিন্তু আমরা জমিয়তে উলামা হিন্দ (আলহামদুলিল্লাহ)আল্লাহর রহমতে আমাদের ভাইদের সাহায্য করতে পেরেছি। তাদের পাশে দাঁড়াতে পেরেছি। তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের ব্যবস্থা করতে পেরেছি। যার জন্য আমরা আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জানাই।

অনুবাদ ও গ্রন্থনা : কাউসার মাহমুদ
সম্পাদনা : মাসউদুল কাদির
তথ্যসূত্র : ডেইলি হামারা সামাজ, দিল্লি

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *