২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ইং , ১৪ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ১৫ই রজব, ১৪৪২ হিজরী

এখনও বেমেছাল আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ

এখনও বেমেছাল আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ

আমিনুল ইসলাম কাসেমী ❑ আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ দামাতবারাকাতুহুম এখনও বেমেছাল। তাঁর ইলম, তাঁর সমঝ, তাঁর জ্ঞানের পরিসীমা আকাশ ছোঁয়া। যেটা বারবার প্রমাণিত হচ্ছে। আমার এই ছোট্ট জীবনে দেখে আসছি অসংখ্যবার। কোন বিষয়ে বলবেন? সকল বিষয়ে তিনি সবার সেরা। অতুলনীয়। কারো সাথে তুলনা করার মত কোন ব্যক্তিত্ব আমার চোখে পড়ে না।

তিনি কোন বিষয়ে যখন কোন সিদ্ধান্ত দেন, অনেকেই বুঝতে অক্ষম। জ্ঞানের স্বল্পতার কারনে তারা বুঝতে পারেন না। অথবা আল্লামা মাসঊদ সাহেবের কথা বোঝার মত কোন যোগ্যতা তাদের হয়নি। তারা এখনো হয়ত তিফলে মক্তব। প্রাথমিক স্তরের ক্লাসে তারা এখনো।

আসলে ব্যাপারটা কিন্তু সাধারণ নয়। যিনি লাইব্রেরীর পর লাইব্রেরী কিতাব মুতালায়া করেছেন। জীবনটা কেটে যাচ্ছে গবেষণার জগতে। দারুল উলূম দেওবন্দ সহ বিশ্বের খ্যাতনামা লাইব্রেরীতে যার অধ্যায়ন-গবেষণা। তাঁর সাথে কি কোন সাধারণ পুথিপড়া মৌলভী সাহেবদের তুলনা চলে? তাঁর ইলমের সামনে, তাঁর যোগ্যতার সামনে কি কম্পিউটরের কিবোর্ড চালানো ব্যক্তিরা মুখ তুলতে পারে?

মানুষ যে বলে, ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ সাহেব যেটা সহজেই বুঝে ফেলেন বা কোন বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত দেন, অন্যরা সেটা ১০/২০ বছর পরে বুঝতে সক্ষম হয়। একদম ধ্রুব সত্য কথা, বাস্তবে দেখছি তাই, আমাদের সামনে যেন স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে বারবার। তারপরেও না বোঝা লোকেরা চুপ থাকে না। সেটা নিয়ে অনেক বাড়াবাড়ি করে। শেষমেষ যখন বুঝতে পারে, তখন লজ্জায় মুখ ঢাকা ছাড়া আর কোন উপায় থাকে না।

আচ্ছা এখন কি বলবেন ওনারা? এতদিন যে ফরীদ মাসঊদ সাহেবকে মুলহিদ বললেন, ওলামায়ে দেওবন্দের কাতার থেকে নাকি উনার নাম কাটা হয়ে গেছে! যার যা মুখের ভাষা আছে সেটা ব্যবহার করলেন, অনলাইন-অফলাইনে তাঁকে বহু হেনেস্তা করা হল। ঠুনকো অজুহাতে রাজপথে তাঁর বিরুদ্ধে আদাজল খেয়ে লেগে গেল কিছু লোক।

আচ্ছা ওনারা কেন বিরোধীতা করলেন ফরীদ সাহেবের? কেন তাঁকে এভাবে অপমান-অপদস্থ করলেন? কারো কাছে কিন্তু এর উত্তর নেই। কেউ স্পষ্ট বলতেও পারেন না। কি জন্য তার সাথে দুশমুনি অনেকে জানেও না। তারপরেও কিছু লোকের খামাখা এ ধরনের কার্যকলাপ জ্ঞানী লোকদের ভাবিয়ে তুলেছে।

ওই লোকগুলো যারা আল্লামা মাসউদ সাহেবের বিরোধীতায় লিপ্ত, খোঁজ নিলে জানা যাবে, ওদের নুন্যতম কোন ইলম নেই। কোন কিতাবী যোগ্যতা বলতে কিছু নেই। কতজন কিতাবের নামও বলতে পারে না। তারা আল্লামা মাসঊদ সাহেবের বিরোধীতা করে। আবার কিছু আছে, যারা বাতিল শক্তির রাহুগ্রাসে আটকে আছে। ওরা এখন হকের চশমা খুলে ওই বাতিলের চশমা চোখে এটেছেন। যার কারণে কিছু যোগ্যতা থাকলেও এখন আর চোখে ভালো জিনিস দেখতে পায় না। তাদের কাছে বাতিলকে হক মনে হয়! আর হক বুঝতে তাদের শক্তি-সাহস হারিয়ে ফেলে।

আজ পযর্ন্ত কোন যোগ্যতা সম্পন্ন আলেমকে আমি ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ সাহেবের বিরোধীতা করতে দেখিনি। কেউ হয়ত কোন হালাতে কিছু বলে ফেললেও পরবর্তীতে তিনি রুজু করে নেন। নতুবা চুপ করে থাকেন। ঝগড়া থেকে বাঁচার জন্য মুখ বন্ধ রাখেন। তারপরেও ফরীদ সাহেবের বিরোধীতা করেন না। এটা নতুন নয়। বহু বছর ধরে দেখে আসছি এটা। কিন্তু ইদানিং কয়েকবছর ধরে কিছু কিছু মৌলভী সাহেবের এমন বাড়াবাড়ি, যেটা মানুষকে ভাবিয়ে তোলে। মুর্খের মত কথা তাদের। একজন সুপন্ডিতের মোকাবেলা কোন অজ্ঞ-মুর্খদের মানায় না।

মুফতী আব্দুস সালম চাটগামী সাহেব ‘মাসিক মুঈনুল ইসলাম’ এ যেটা প্রকাশিত হয়েছে, সেখানে তিনি যা তিনি তুলে ধরেছেন, এটা তো আল্লামা মাসউদ সাহেবের বক্তব্য ছিল। এখন কিন্তু সবাই নীরব। আর কারো কোন কথা নেই। কেউ আর ফতোয়া দিচ্ছে না।

দেখুন, ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ সাহেবের মেযায, কথা, বক্তব্যের সাথে মিল পাওয়া গিয়েছিল পাকিস্তানের আল্লামা তকী উসমানী দামাতবারাকাতুহুম এর। যেটা প্রায় বছর খানেক আগের কথা। সেসময়ে আমরা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে ছিলাম ওনাদের। কেননা , তকী উসমানী সাহেব এমন ব্যক্তিত্ব, যাকে আমরা দেশ/ বিদেশের সকলেই তাঁকে শ্রদ্ধার চোখে দেখি। সেই মহান ব্যক্তি জিহাদ সস্পর্কে যা বলেছিলেন আল্লামা মাসউদ সাহেব একই কথা অনেক আগেই বলেছেন।

সর্বশেষ মুফতী আব্দুস সালম চাটগামী সাহেব ‘মাসিক মুঈনুল ইসলাম’ এ যেটা প্রকাশিত হয়েছে, সেখানে তিনি যা তিনি তুলে ধরেছেন, এটা তো আল্লামা মাসউদ সাহেবের বক্তব্য ছিল। এখন কিন্তু সবাই নীরব। আর কারো কোন কথা নেই। কেউ আর ফতোয়া দিচ্ছে না। এবার আর ফেসবুকের মুজাহিদদের কোন পোষ্ট দেখা যাচ্ছে না। বরং এখন দেখি অনেকে সুর পাল্টাচ্ছেন। তেলতেলে পোষ্ট দিচ্ছেন। তাহলে কেন আল্লামা মাসঊদের প্রতি এত ক্ষিপ্ত ছিলেন তখন। কেন বা তাঁকে হেনেস্তা করা হয়েছিল। কেন বিষোদগার করা হয়েছিল। একটা শক্তিকে কেন তাঁর বিরুদ্ধে দাঁড় করানো হলো।

আসলে হিসেব করলে, খোঁজ খবর নিলে দেখা যায়, আল্লামা মাসঊদের প্রতি এমন বিদ্বেষ, এমন দুশমুনির বড় কারণ মনে হয়, তাঁর হক- হক্কানিয়্যাতের উপর অটল-অবিচলতা । তিনি কোনদিন বাতিলকে প্রশ্রয় দেননি। কোন বাতিলের সাথে আপোসরফা হয়নি তাঁর। তিনি বহু কষ্ট-ক্লেশ সহ্য করেছেন, তারপরেও মাথানত হয়নি কখনো।

এখনতো অনেকে জামানার আহমদ ইবনে হাম্বল দাবী করছেন। কিছু সাজানো লোক চাতুরতার সাথে বিভিন্ন লকব নিজের নামে জুড়ে দিচ্ছেন। আমি খারাপ কিছু বলি না তাদের। তবে বাতিলের সাথে হাত মিলিয়ে, বাতিল শক্তির থেকে মদদ নিয়ে কিভাবে জামানার আহমদ ইবনে হাম্বল হওয়া যায়? ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল তিনি কখনো বাতিলকে আশ্রয় দেননি। তাদের সাহায্য নেননি।

আল্লামা মাসঊদ সাহেব এমন এক ব্যক্তিত্ব। যিনি প্রচার বিমুখ। তিনি কোন অনলাইন এ্যাক্টিভেটর তৈরী করেননি। কোন লোক সেট করেননি। তিনি মহান আল্লাহর উপর ভরসা করে হকের উপর অটল-অবিচল থাকার কোশেশ করে যাচ্ছেন। তিনি কথা বলেন কম কিন্তু কাজ করেন বেশী। জাতির কল্যাণে তাঁর অপরিসীম অবদান।

যাইহোক, জ্ঞান সমুদ্র সম্পন্ন মহান ব্যক্তিত্ব আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ। জীবন্ত গ্রন্থগার বলা যায় তাঁকে। দীর্ঘকাল ব্যাপি জাতির নানামুখি খেদমত করে যাচ্ছেন। তিনি আজও বেমেছাল। সত্তোর্ধ বয়স তাঁর। কিন্তু এখনো অকাতরে জ্ঞান বিলিয়ে যাচ্ছেন। নিঃস্বার্থ ভাবে তিনি মানুষের পাশে। চতুর্মুখি খেদমতের আন্জাম দেন তিনি। যেমন তাঁর মেধা, তেমন তাঁর দরস। ইলমে হাদীসের ময়দানে তিনি যেন মহাসম্রাট। প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে বুখারী শরীফের দরস দেন। হাজারো ছাত্র তিনি গড়েছেন, যারা এখন জাতির কর্ণধর হিসাবে কাজ করছেন। আবার তিনি খ্যতিমান লেখক। ছাত্র জীবন থেকে তিনি লিখে আসছেন। বহুগ্রন্থের প্রণেতা তিনি। কদিন আগে তিনি দুই হাজার পৃষ্টার সীরাত গ্রন্থ লিখেছেন। যেটা নিয়ে মানুষ অনেক আশাবাদী।

পাশাপাশি তিনি সুলুকের লাইনে বড় অবদান রাখছেন। ফেদায়ে মিল্লাত সাইয়্যেদ আসআদ মাদানী রহ, এর খলিফা তিনি। মানুষের আত্মশুদ্ধির মেহনতে নিজেকে সঁপে দিয়েছেন। হাজারো মানুষ উপকৃত হচ্ছে তাঁর খেদমতে। বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে তিনি সফর করছেন উম্মতের দরদ ব্যাথা নিয়ে।

পরিশেষে আল্লামা মাসঊদ সাহেবের সুস্বাস্থ্য ও নেক হায়াত কামনা করি। পাশাপাশি যারা আজও জ্ঞানের স্বল্পতার কারণে সেই মহান ব্যক্তির বিরোধীতা করে আসছেন, আল্লাহ যেন সহী বুঝ দান করেন। আমিন।

লেখক: শিক্ষক ও কলামিষ্ট

নিউজটি শেয়ার করুন

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com