২৬শে নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ৩০শে রবিউস সানি, ১৪৪৪ হিজরি

‘কলব জারী’ হলে সর্বক্ষণ আল্লাহকে অনুভব করা যায় : আল্লামা মাসঊদ

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : জিকির করতে করতে ‘কলব জারী’ হয়ে গেলে দিলে–হৃদয়ে সর্বদা আল্লাহর অস্তিত্ব অনুভব করা যায় বলে জানিয়েছেন শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, শাইখুল ইসলাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।

বৃহস্পতিবার (২৭ অক্টোবর) হাজীপাড়া ঝিল মসজিদে মাসিক শবগুজারি উপলক্ষ্যে আগত মুসল্লীদের উদ্দেশ্যে করা বয়ানে তিনি এসব কথা বলেন।

‘আল্লাহকে পাওয়ার পদ্ধতি শিখতে হয়’ মন্তব্য করে এই ফিদায়ে মিল্লাতের এই খলীফা বলেন, দুনিয়ার প্রতিটি জিনিস শিখতে হয়। সে হিসেবে আল্লাহকে পাওয়ার পদ্ধতিও শিখতে হয়। আল্লাহকে পাওয়ার জন্য দীর্ঘ সাধনা করতে হয়।

‘শায়খকে কলবের অবস্থা জানানো জরুরী’ সাব্যস্ত করে তিনি বলেন, ডাক্তারের যেমন রোগীর অবস্থা সম্পর্কে পরিপূর্ণ জ্ঞাত থাকতে হয়, রোগীর অবস্থা না জানলে পরিপূর্ণ চিকিৎসা প্রয়োগ সম্ভবপর হয় না, তেমনি তাসাওউফের রাস্তায় নিজের উন্নতির জন্য শায়েখকে দিলের অবস্থা জানানো জরুরী। কেবল তাহলেই দিলের চিকিৎসা করা সম্ভব।

আল্লাহকে পাওয়ার ধারাবাহিক সবক সম্পর্কে জানাতে গিয়ে আল্লামা মাসঊদ বলেন, যে আল্লাহকে পেতে চায়, তার প্রথম সবক হয় ছয় তাসবীহের জিকির। ছয় তাসবীহের জিকিরে কলবের অবস্থার উন্নতি হলে ‘ইসমে যাত’-এর জিকির করতে হয়। এভাবে দিলের অবস্থা আরো উন্নতি হলে শায়েখ তাকে বারো তাসবীহের জিকির সবক হিসেবে দিতে পারেন। বারো তাসবীহের জিকিরের মাধ্যমে আরো উপরে যেতে হয়।

তারপর শায়েখ মুনাসিব মনে করলে ‘পাস আনফাস’-এর জিকির দিবেন। পাস আনফাস-এর জিকির হলো, আমাদের শ্বাস প্রশ্বাসকে আল্লাহর নামের জিকিরে পরিবর্তন করা। এই জিকিরের মাধ্যমে কলিমার সাথে মৃত্যু নসীব হয়। কারণ, তখন জবান বন্ধ হয়ে যায়।

তারপরের জিকিরকে বলা হয় ‘জিকরে কলবী।’ এই জিকিরের মাধ্যমে কলবের প্রতিটি তাহরীককে আল্লাহর জিকিরে পরিণত করা যায়।

জিকরে কলবীর পরবর্তী ধাপ জানাতে গিয়ে শাইখুল ইসলাম বলেন, জিকরে কলবীর পরের অবস্থা ‘মুরাকাবা।’ আল্লাহর কুদরত ও শানের মুরাকাবা করতে হয়। কলবের মুরাকাবার মাধ্যমে ‘হুযুরে দায়েম’ অর্জন হয়ে যায়। ‘হুযুরে দায়েম’ হলো, এতে সর্বাবস্থায় আল্লাহ তাআলাকে কলবে অনুভব করা যায়। আল্লাহওয়ালারা আল্লাহ তাআলাকে কলবে সর্বদা অনুভব করতে পারেন।

একজন মুরীদ কখন খেলাফতের যোগ্য বলে বিবেচিত হন—এ প্রসঙ্গে আল্লামা মাসঊদ বলেন, শায়েখ যখন তার মুরীদের ব্যাপারে এই আস্থা পোষণ করেন যে, তার হুযুরে দায়েমী হয়ে গেছে, সে সর্বদা আল্লাহকে অনুভব করতে পারে, তখন শায়েখ তাকে খেলাফত দেন। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে আল্লাহকে পাওয়ার তাওফিক দান করুন। আমীন।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২২ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com