জাতীয় বেফাকের কৃতী শিক্ষার্থীদের পুরস্কার তুলে
দিলেন ধর্মপ্রতিমন্ত্রী
পাথেয় রিপোর্ট : বেফাকুল মাদারিসিদ্দীনিয়্যা বাংলাদেশ-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিয়েছেন ধর্মপ্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ।
৯ মার্চ শনিবার বারিধারা জে ব্লকে জামিয়া আশরাফিয়া মিলনায়তনে বেফাকুল মাদারিসিদ্দীনিয়্যা বাংলাদেশ (জাতীয় দ্বীনি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বাংলাদেশ) এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধর্মপ্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। সভাপত্বিত করেন বেফাকুল মাদারিসিদ্দীনিয়্যা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, শাইখুল হাদীস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ আব্দুল্লাহ বলেন, পুরস্কার হিসেবে পবিত্র উমরা পালনের সুযোগ করে দেয়াটা আমাকে অভিভূত করেছে, মুগ্ধ করেছে। এমন একটি পুরস্কার নির্ধারণ করায় বেফাকুল মাদারিসিদ্দীনিয়্যা বোর্ডের সাথে সম্পৃক্ত সবাইকে ধন্যবাদ ও সাধুবাদ জানাই।
বিএনপি উলামায়ে কেরামের কোন কাজে আসেনি মন্তব্য করে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নেতাকর্মীরা নিজেদেরকে ইসলামের দল, উলামায়ে কেরামের দল দাবি করলেও কখনো উলামায়ে কেরামের কোন কাজে আসেনি। কওমী স্বীকৃতি প্রসঙ্গে উলামায়ে কেরামকে অনেক হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে বিএনপির কাছে। তারা শুধু উলামায়ে কেরামকে ব্যবহার করেছে, উলামায়ে কেরামের কোন উপকার করেনি। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কওমী স্বীকৃতি প্রদান করে প্রামাণ করে দিয়েছেন, তিনি উলামায়ে কেরামকে ভালোবাসেন। উলামায়ে কেরামের পাশে আছেন।
ধর্মপ্রতিমন্ত্রী আলহাজ শেখ আবদুল্লাহ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিক প্রচেষ্টার কারণেই কওমী সনদের স্বীকৃতি দেয়া সম্ভব হয়েছে। বিএনপি-জামাত সরকার স্বীকৃতির নামে কওমী আলেমদের ধোঁকা দিয়েছিল।
আল্লামা মাসঊদের ব্যবহারে আমি মুগ্ধ হয়েছি উল্লেখ করে শেখ আব্দুল্লাহ বলেন, আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদের সাথে প্রথম যে দিন আমার দেখা হয়, সেই দিনই আমি তাঁর ব্যবহারে মুগ্ধ হয়েছি। যার ইলম বেশি, তার নমনীয়তা বেশি, এর বাস্তব প্রমাণ আমি তাঁর মধ্যে পেয়েছি। আমি যে সব উলামায়ে কেরামের সোহবতে থাকতে চাই, তাদের মধ্যে আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ অন্যতম একজন।
বেফাকুল মাদারিসিদ্দীনিয়্যা বাংলাদেশ-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ায় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহকে ধন্যবাদ এ মোবারকবাদ জানান বেফাকুল মাদারিসিদ্দীনিয়্যা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।
সুস্ঠ সুন্দরভাবে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হওয়ার পিছনে শেখ আব্দুল্লাহর অবদান অনেক বেশি উল্লেখ করে আল্লামা মাসঊদ বলেন, তিনি ইসলাম ও মুসলানদের কল্যাণে কাজ করেছেন। তাঁকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে পেয়ে আমরা ধন্য। ইনশাআল্লাহ একদিন আমরা তাঁকে ধর্মমন্ত্রী হিসেবে দেখতে পাবো।
কওমী অঙ্গনের উপকারের জন্য ‘বেফাকুল মাদারিসিদ্দীনিয়্যা বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে মন্তব্য করে ইদারাতুল উলূম আফতাব নগর মাদরাসার মুহতামিম, দ্বীনিয়া বোর্ডের মহাসচিব মুফতী মোহাম্মাদ আলী বলেন, কওমী মাদরাসা স্বীকৃতি বাস্তবায়ন ও কওমী শিক্ষার্থীদের কল্যাণকামী হয়ে আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ ‘বেফাকুল মাদারিসিদ্দীনিয়্যা’ প্রতিষ্ঠা করেছেন। কওমী স্বীকৃতি বাস্তবায়নে আমাদের এই বোর্ডের কোন বিকল্প নেই। তিনি বলেন, আল্লামা মাসঊদ সবসময় উম্মতের কল্যাণকামী হয়ে কাজ করেন। নিজের কোন স্বার্থ, নাম ও জৌলুসের জন্য কখনো কাজ করেননি। কওমী স্বীকৃতি বাস্তবায়নে আল্লাম ফরীদ ঊদ্দীন মাসঊদের অবদান জাতি কখনো ভুলতে পারবে না।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মুফতী মোহাম্মদ আলী বলেন, আল-হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’-এর অধীন কওমি মাদ্রাসাসমূহের দাওরায়ে হাদিসের (তাকমিল) সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি) সমমান প্রদান বিল পাস করানোর ক্ষেত্রে আমাদের মাননীয় মন্ত্রীর অবদান অনস্বীকার্য। তিনি কওমী উলামায়ে কেরামকে অনেক ভালোবাসেন। আমরা তাঁকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে পেয়ে ধন্য। ইনশাআল্লাহ তিনি আমাদের কওমী অঙ্গনের সব কাজ-কর্মে উলামায়ে কেরামের পাশে থাকবেন।
অল্প সময়েই বেফাকুল মাদারিসিদ্দীনিয়্যা বোর্ডের সফলতা সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে মন্তব্য করে জামিআ ইকরা বাংলাদেশ’র রইস, সার্কেট হাউজ মসজিদের খতীব, মাওলানা আরীফ উদ্দীন মারুফ বলেন, মানসম্মত শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরকে দেওবন্দের চিন্তা-চেতনা ও আদর্শে গড়ে তোলার জন্য আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ ‘বেফাকুল মাদারিসিদ্দীনিয়্যা বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠা করেছেন। আল্লাহ তাআলার শুকরিয়া আদায় করে বলছি, অল্প সময়ের মধ্যেই সারা বাংলাদেশে বেফাকুল মাদারিসিদ্দীনিয়্যা বোর্ডে সফলতা ছড়িয়ে পড়েছে।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, মুফতী আবুল কাসেম, মাওলানা আসআদ আল হোসাইনী, মাওলানা ইমদাদুল্লাহ কাসেমী, মাওলানা উবায়দুর রহমান মাওলানা আব্দুল আলীম ফরীদী, মাওলানা শরফুদ্দীন, মাওলানা শফিকুল ইসলাম, মাওলানা আবু বকর, মুফতী জসীম উদ্দীন, মাওলানা আব্দুল জলীল ত্বহা, মুফতি নুরুজ্জামান নুরী, মাওলানা আব্দুল জলীল, মাওলানা মুজিবুর রহমান, মাওলানা সুফিয়ান আহমদ, মাওলানা শফিকুল ইসলাম, মাওলানা হাবিবুর রহমান, মাওলানা শরিফুল ইসলাম প্রমুখ।



