২৭শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ১৬ই জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

জামায়াত নিষিদ্ধে আদালতের রায় পর্যন্ত অপেক্ষা : প্রধানমন্ত্রী

পাথেয় রিপোর্ট : প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, শর্ত পূরণ করতে পারেনি বলে নির্বাচন কমিশন জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করেছে। তবে দল হিসেবে সক্রিয় রয়েছে। এখন তাদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার একটা মামলা কোর্টে রয়ে গেছে। এই মামলা রায় যতক্ষণ না হবে সেখানে বোধ হয় আমরা কোন কিছু করতে পারি না।

বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত ত্রিশ মিনিটের প্রশ্নোত্তর পর্বে তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ সব কথা বলেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

জিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী শেখ হাসিনার কাছে জানতে চান জামায়াতকে নিষিদ্ধ এবং বিএনপি নেতা তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে কিনা? উত্তরে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যারা অপরাধী, মানুষ খুন করা থেকে শুরু করে যারা মানি লন্ডারিং করেছে, এতিমের অর্থ আত্মসাৎ করেছে, দুর্নীতি করেছে- এসব মামলায় যারা সাজাপ্রাপ্ত, যারা বিদেশে পালিয়ে আছে, পলাতক আসামি- তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য আমাদের আলোচনা চলছে। আমি বিশ্বাস করি, আমরা তাদের ফিরিয়ে এনে সাজা কার্যকর করতে পারব।

তিনি বলেন, জামায়াত যুদ্ধাপরাধী দল, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর দোসর ছিল। এ দেশে গণহত্যা চালানো থেকে শুরু করে নারী ধর্ষণ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগসহ নানা ধরনের অপরাধ করেছিল। জামায়াত নিষিদ্ধের মামলাটি আদালতে চলমান রয়েছে। আশি আশা করি, কোর্টের রায় খুব শিগগিরই যদি হয়ে যায়, তাহলে জামায়াত রাজনৈতিক দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে।

তারেক রহমানসহ দণ্ডিত পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে সাজা কার্যকরের দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, যারা অপরাধী, মানুষ খুন করা থেকে শুরু করে যারা মানিলন্ডারিং করেছে, এতিমের অর্থ আত্মসাত করেছে, দুর্নীতি এ সমস্ত মামলায় যারা সাজাপ্রাপ্ত, যারা বিদেশে পালিয়ে আছে, পলাতক আসামি- তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য আমাদের আলোচনা চলছে। আমি বিশ্বাস করি- আমরা তাদের ফিরিয়ে এনে সাজা কার্যকর করতে পারবো।

তিনি বলেন, নির্বাচনে জামায়াতকে জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে। এটা ন্যাক্কারজনক- তারা নিবন্ধিত না, সেই অবস্থাতেও তারা বিএনপির সঙ্গে জোট করে করে জামায়াত ইসলামী নামে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হয়েছে। জনগণকে ধন্যবাদ জানাই তারা জামায়াতকে ভোট দেয়নি।

শেখ হাসিনা বলেন, যে কোনো গণতান্ত্রিক নির্বাচন হল পক্ষ এবং প্রতিপক্ষের মধ্যে ভোটারদের সমর্থন আদায়ের প্রতিযোগিতা। প্রতিপক্ষ শক্তিশালী হলে প্রতিযোগিতা জোরালো হয়। কিন্তু এবারের নির্বাচনে আমাদের যারা প্রধান প্রতিপক্ষ ছিল তাদের কোনো নির্বাচনী প্রস্তুতি বা কৌশল ছিল বলে আমার মনে হয়নি।

বিএনপি-জামায়াত জোটের ভরাডুবির কারণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনে তারা এক আসনে ৩-৪ বা তারও বেশি প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছিল। তাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ ছিল। তারা দুর্বল প্রার্থী দিয়েছিল। নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে কে প্রধানমন্ত্রী হবেন সে বিষয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। নিজেরা জনগণের জন্য কী করবে, সে কথা তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছে। এছাড়া ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াতের দেশব্যাপী অগ্নিসন্ত্রাস ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের মন থেকে মুছে যায়নি।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচনের প্রাক্কালে বিএনপি-জামায়াত এবং তাদের নির্বাচনী প্ল্যাটফর্ম ঐক্যফ্রন্ট থেকে বিভিন্ন আজগুবি প্রতিশ্রুতি (যেমন- যে কোনো বয়সে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সুযোগ) দেয়, যা জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

রেকর্ডের জন্য রাজনীতি করি না : শফিকুল ইসলাম শিমুলের প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি রেকর্ডের জন্য রাজনীতি করি না। আমার বাবা এবং সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার সময় আল্লাহর অশেষ কৃপায় আমরা দু’বোন প্রাণে বেঁচে যাই। আমি এর আগে কোনোদিন চিন্তাই করিনি জাতীয় রাজনীতিতে আসব। যদিও ছাত্রাবস্থাতেই আমি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম। তিনি বলেন- হত্যা, মামলা, জেল-জুলুম, হত্যার পরিকল্পনা, গ্রেনেড আক্রমণ কোনো কিছুই আমাকে আমার সংকল্প থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। আর আমার সংকল্প হচ্ছে- আমার বাবা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com