৬ই আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ২২শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ২৬শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

দেওবন্দের কবুলিয়্যাত জগদ্বিখ্যাত : দারুল উলূমে ইরান প্রতিনিধি দল

দেওবন্দের কবুলিয়্যাত জগদ্বিখ্যাত : দারুল উলূমে ইরান প্রতিনিধি দল

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম (দেওবন্দ) : ভারতের প্রখ্যাত দীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল উলূম দেওবন্দে ইরানের একটি প্রতিনিধি দল পরিদর্শনে এসেছেন।ইরানের প্রসিদ্ধ আল-মোস্তফা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক আলী আব্বাসী-এর নেতৃত্বে এই প্রতিনিধি ৭ এপ্রিল শনিবার দারুল উলূম দেওবন্দ এসে উপস্থিত হয়।

ভারতের ডেইলি হামারা সামাজে প্রকাশিত সংবাদ সূত্রে জানা যায়, ইরানের এই প্রতিনিধি দল দারুল উলূম দেওবন্দ সম্পর্কে জানতে দেওবন্দ সফরে এসেছেন। দারুল উলূম দেওবন্দের মুহতামিম মুফতী আবুল কাসেম নোমানী তাদের স্বাগত জানান এবং দারুল উলূম দেওবন্দের মোহমানখানয় আপ্যায়নের ব্যবস্থা করেন।

প্রতিনিধি দলের প্রধান অধ্যাপক আলী আব্বাসী বলেন, দারুল উলূম দেওবন্দের শুহরাত ও কবুলিয়্যাত জগদ্বিখ্যাত। দেওবন্দকে ইলম-আমল ও ইসলামের প্রাণকেন্দ্র মনে করা হয়। বিশ্বের অধিকাংশ মুসলিম দেশগুলো দারুল উলূম দেওবন্দ মাদরাসাকে তাদের আদর্শ মনে করে। দেওবন্দের আদর্শ বাস্তবায়নের চেষ্টা করে।

আলী আব্বাসী বলেন, মুসলমানরা দীর্ঘদিন ইসলামের ছায়াতলে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করলেও এখন মুসলিম সভ্যতা ধ্বংসের পথে। দারুল উলূম দেওবন্দসহ বিশ্বের মুসলিম দেশগুলোর বড় বড় ইউনিভার্সিটিগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে ইসলাম ও মুসলামনদের জন্য কাজ করার কথা বলেন তিনি।

পরে দারুল উলূম দেওবন্দের দফতরে ইহতেমামে মুফতি আবুল কাসেম নোমানী ইরানের এই প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে মাওলানা নোমানী দারুল উলূম দেওবন্দ কী ও কেন? দেওবন্দ কী চায়, দেওবন্দের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য কী? ইলমে দ্বীন ও ইসলামের প্রচার ও বিকাশে দারুল উলূম দেওবন্দের অবদান বিশ্বের দরবারে কতটুকু, এসব নিয়ে বিস্তারিত আলাপ করেন।

আলী আব্বাসী ও ইরানের মুসলমানদের বর্তমান অবস্থা, ধর্ম, শিক্ষা, সংস্কৃতি, ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা করেন।

আল-মোস্তফা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক বলেন, আমরা দারুল উলূম দেওবন্দ পরিদর্শন করেছি। দেওবন্দ মাদরাসা আমাদের হৃদয় জয় করে নিয়েছে। দেওবন্দের আতিথেয়তায় আমরা মুগ্ধ। আমরা দেওবন্দ ও দেওবন্দের শিক্ষকদের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।

প্রসঙ্গত, দারুল উলূম দেওবন্দ ভারতের একটি প্রসিদ্ধ দ্বীনি মাদরাসা। এখান থেকে দেওবন্দি আন্দোলনের সূত্রপাত হয়।উপমহাদেশ থেকে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনও করেন এই প্রতিষ্ঠানের আলেমগণই।উত্তর প্রদেশের সাহারানপুর জেলার দেওবন্দ নামক স্থানে এই মাদরাসার অবস্থান। ১৮৬৬ সালে বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ইসলামি পণ্ডিত এটির প্রতিষ্ঠা করেন। মাওলানা মুহাম্মদ কাসেম নানুতুবি রহ. তাদের প্রধান ছিলেন। অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন মাওলানা রশিদ আহমেদ গাঙ্গোহি ও হাজি সাইদ আবিদ হুসাইন।

গ্রন্থনা ও অনুবাদ : আদিল মাহমুদ
সম্পাদনা : মাসউদুল কাদির
সূত্র : ডেইলি হামারা সমাজ, দিল্লি

আও পড়ুন

যেভাবে পাবেন দেওবন্দের স্টুডেন্ট ভিসা

দারুল উলূম দেওবন্দের উস্তাদ মাওলানা জামীল আর নেই

রাজ্য জমিয়ত ভবন পরিদর্শন অভিভূত দেওবন্দ মুহতামিম

আহ্ দেওবন্দের স্টুডেন্ট ভিসা, আবার যেতে চায় মন

দারুল উলূম দেওবন্দে ফিলিস্তিন আলেমদের প্রতিনিধি দল

‘ভারতের স্বাধীনতায় দেওবন্দ ও দ্বীনী মাদরাসার অবদান অনেক বেশি’

ইয়াওমে জমহুরিয়ায় দেওবন্দ শিক্ষার্থীদের সফর না করার নির্দেশ

 

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com