পাথেয় রিপোর্ট : নির্বাচন এলেই নির্বাচনী ডামাডোলে আলেমগণ পথ হারায় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, ঐতিহাসিক শোলাকিয়ার গ্র্যাণ্ড ইমাম শাইখুল হাদীস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ। তিনি বলেন, দ্বীনের ক্ষেত্রে যে ব্যক্তি অগ্রগামী সংসদে কথা বলতে পারে এমন ব্যক্তিকে নির্বাচিত করতে হবে। শরঈ দৃষ্টিকোণ থেকে নির্বাচন অতটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। বিস্ময়কর হলো সত্য, এ যুগে নির্বাচনী ডামাডোলে আলেমগণ পথ হারায়।
আসন্ন নির্বাচনে পথ না হারানোর আহ্বান জানিয়ে আল্লামা মাসঊদ বলেন, যে ব্যক্তি দ্বীনের ক্ষেত্রে অগ্রগামী এবং ভোট দিলে নির্বাচিত হয়ে দ্বীনের পক্ষে, নবীজীর আদর্শ উড্ডীন করার বিষয়ে সংসদে কথা বলার অঙ্গীকার যিনি করবেন তাকেই নির্বাচিত করা উচিত।
বাম-জামাতের রাজনৈতিক দূরভিসন্ধির বিষয়ে সতর্ক করে আল্লামা মাসঊদ জমিয়ত সদস্যদের উদ্দেশ্য করে বলেন, তোমাকে গিলে খেতে ময়দানে এখন বাম-জামায়াত ঘুরছে। জামায়াতের অপকৌশল থেকে বাঁচার জন্য নিজের চৌহদ্দির মধ্যে বেড়া দিতে হবে। জামায়াতের অপপ্রচার থেকে বাঁচতে সহিহ দ্বীনের উপর বেশি বেশি প্রশিক্ষণ নেয়ার কথাও বলেন তিনি।
১৭ নভেম্বর ২০১৮ শনিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা আয়োজিত তরবিয়তি জলসায় ইকরা বাংলাদেশ মিলনায়তনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আল্লামা মাসঊদ এসব কথা বলেন।
নিজের আমিত্বর বিনাশ ছাড়া কারো তরিবয়ত অর্জন হয় না দাবী করে আল্লামা মাসঊদ বলেন, তরবিয়ত পেতে হলে একটি বীজের মতোই নিজেকে প্রথমে মাটিতে পুতে ফেলতে হবে। আমাদের সবার আগে জানতে হবে তরবিয়ত কী? তরবিয়ত গ্রহণ করার আগে এর সাথে সম্পৃক্ত ৩টি বিষয় সম্পর্কে খুব ভালোভাবে জেনে নেয়া উচিত। ৩টি বিষয় হলো. তরবিয়ত কী, তরবিয়ত কেমন করে হয় এবং এর ফলাফল কী! তিনি বলেন, তরবিয়ত জিনিসটাকে একটা গাছের সঙ্গে তুলনা করা যায়। কুরআনে কারীমে দ্বীনকে আল্লাহ তায়ালা ‘শাজারায়ে তাইয়্যেবার’ সাথে তুলনা করেছেন। তাই তরবিয়ত পেতে হলে সবার আগে নিজের আমিত্বকে বিলীন করে দিতে হবে। অহমকে ভেঙে ফেলতে হবে। একটি বীজ যেমনিভাবে মাটিতে প্রোথিত হলে সে নিজেকে মাটির মধ্যে বিলিয়ে দেয়। তারপর ধীরে ধীরে তার অঙ্কুরোদ্গম হয়। পরে একসময় এটি একটি গাছে রূপান্তরিত হয়। তেমনিভাবেই তরবিয়ত পেতে হলে সবর আগে নিজেকে বিলিয়ে দিতে হবে। নিজের আমিত্বকে মুছে দিলেই তরবিয়ত পাওয়া সম্ভব।
দ্বীনকে গ্রহণ করার জন্য প্রথম শর্ত হলো ‘এতায়াত’ এই মন্তব্য করে আল্লামা মাসঊদ আরো বলেন, তরবিয়তের মাধ্যমে দ্বীনের শিক্ষা লাভ হয়। আর এই দ্বীনকে পেতে হলো সবার আগে নিজের চারপাশে বেড়া দিতে হবে। শয়তান যেন বিপথে না নিয়ে যেতে পারে তার জন্যই প্রয়োজন তরবিয়ত। তাই তরবিয়ত পেতে হলে, নিজের আমিত্বকেই বিনাশ করতে হবে এবং এর জন্য প্রয়োজন অনুসরণের।
এর আগে সকাল দশটা থেকে অনুষ্ঠানের ধারাবাহিক কার্যক্রম শুরু হলে দিনব্যাপী কর্মশালা ও তরবিয়ত বিষয়ে বক্তব্য রাখেন উপস্থিত বক্তারা। সর্বশেষ বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, ঐতিহাসিক শোলাকিয়ার গ্র্যাণ্ড ইমাম ও অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি শাইখুল হাদীস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদের দোয়ার মাধ্যমেই এ তরবিয়তী জলসার সমাপ্তি ঘটে।
তরবিয়তি ইজতিমায় স্বাগত বক্তব্য দেন, বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা ঢাকা মহানগরীর সেক্রেটারি, ইকরা বাংলাদেশের প্রিন্সিপাল মাওলানা সদরুদ্দীন মাকনুন, বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার মহাসচিব মাওলানা আব্দুর রহীম কাসেমী বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার কর্মসূচি, তালিম, ইনফাক ও দাওয়াতের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেন। জমিয়তে উলামা হিন্দের প্রতিষ্ঠা প্রেক্ষাপট ও পথচলা নিয়ে নিয়ে আলোচনা করেন মুফতি ফয়জুল্লাহ আমান কাসেমী। আকাবিরের সমঝ ও বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা নিয়ে আলোচনা করেন মাওলানা ইব্রাহীম শিলাস্থানী।
এ ছাড়াও শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, মাওলানা হোসাইন আহমদ, মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন সাইফী, মাওলানা আবদুল কাইয়ুম সোবহানী, মাওলানা নাইম ইসলাম, মুফতি রেজা আবদুল্লাহ, মাওলানা জিয়া বিন কাসেম, মাওলানা মাসউদুল কাদির, মাওলানা আবদুল্লাহ গাজীনগরী, মাওলানা আবদুল্লাহ আল আমিন প্রমুখ।


