১লা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১৭ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ২১শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

পরীক্ষার আসল পরিবেশ কওমী মাদরাসায়

পরীক্ষার আসল পরিবেশ কওমী মাদরাসায়

মাওলানা আমিনুল ইসলাম : একমাত্র কওমী মাদ্রাসা গুলোতে পরীক্ষার আসল পরিবেশ দেখা যায়। এছাড়া আর কোথাও এরকম সুন্দর সুশৃংখল পরিবেশ নজরে আসে না।
আমাদের বোর্ডের আওতাধীন যত মাদ্রাসা আছে, সকল প্রতিষ্ঠান গুলো এরকম সুন্দর পরিবেশ।

সম্পুর্ণ নকল মুক্ত। কোন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী নকলের আশ্রয় নেয় না। কোন শিক্ষক নকলের সহযোগীতা করেনা। কোন ধরনের হাঙ্গামা নেই। শিক্ষার্থীগণ আল্লাহর রেজামন্দী হাসিলের উদ্দশ্যে এই পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করে থাকেন।

কওমী মাদ্রাসার পরীক্ষায় কোন পুলিশ পাহারা লাগেনা। এসব প্রতিষ্ঠানের ছাত্র ছাত্রী গণ এত ভদ্র, কোন ধরনের বিশৃংখলা তারা সৃষ্টি করেনা। পরীক্ষা কেন্দ্র থাকে একদম নীরব। হৈচৈ মুক্ত।

কওমী মাদ্রাসার পরীক্ষায় কোন প্রশ্ন পত্র ফাঁসের ঘটনা নেই। আজ পর্যন্ত কোন পরীক্ষায় এধরনের ঘটনা ঘটেনি। বোর্ড কতৃপক্ষ খুবই আমানতদারীর সাথে পরীক্ষার যাবতীয় কাজের আন্জাম দিয়ে থাকেন। যার কারণে কোন পরীক্ষায় প্রশ্ন পত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেনা।

কওমী মাদ্রাসার শিক্ষক গণ খুবই সতর্ক। তাঁরা তাদের ছাত্রদের প্রতি খুবই নজর রাখেন। পরীক্ষার সময় ছাত্রদেরকে কোন সুযোগ সুবিধা দিয়ে, উস্তাদগণ তাদের উজ্জল ভবিষ্যত নষ্ট করতে চান না। এজন্য উস্তাদগণ থাকেন খুবই কঠোর। আর এই কঠোরতার দরুন,ছাত্ররা লেখা পড়ায় মনোনিবেশ করেন। পরীক্ষার সময় ছাত্ররা কখনো কোন সুযোগ তালাশ করেনা।

দারুল উলুম দেওবন্দের সিলসিলায় যত মাদ্রাসা আমাদের দেশে আছে, সকল প্রতিষ্ঠান গুলোতে পরীক্ষার এরকম সু পরিবেশ। ঠিক দারুল উলুম দেওবন্দ যেরকম নকল মুক্ত, শিক্ষার অনুকুল পরিবেশ, তার সিলসিলার সকল প্রতিষ্ঠান তারই অনুকরণ করে থাকে।

এই বাংলাদেশে একটা দুইটা মাদ্রাসা নয়, প্রায় বিশ হাজার মাদ্রাসা। আর এই হাজার হাজার মাদ্রাসাতে লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী। লাখো লাখো শিক্ষার্থীর সকলেই সুন্নাতে নববীর অনুসারী। সকলেই আমানতদার। কেউ পরীক্ষায় তাদের আমানতের খেয়ানত করে না।

প্রসঙ্গত, দারুল উলূম দেওবন্দ ভারতের একটি প্রসিদ্ধ দ্বীনি মাদরাসা। যাকে কেন্দ্র করেই শুরু হয়েছে এই কওমী মাদরাসার সূচনা। এখান থেকে দেওবন্দি আন্দোলনের সূত্রপাত হয়।উপমহাদেশ থেকে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনও করেন এই প্রতিষ্ঠানের আলেমগণই।উত্তর প্রদেশের সাহারানপুর জেলার দেওবন্দ নামক স্থানে এই মাদরাসার অবস্থান। ১৮৬৬ সালে বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ইসলামি পণ্ডিত এটির প্রতিষ্ঠা করেন। মাওলানা মুহাম্মদ কাসেম নানুতুবি রহ. তাদের প্রধান ছিলেন। অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন মাওলানা রশিদ আহমদ গাঙ্গোহি ও হাজি সাইদ আবিদ হুসাইন।

আল্লাহ তায়ালা কওমী মাদ্রাসার সকল শিক্ষার্থীকে কবুল করুন। আমিন।

লেখক : শিক্ষক ও সমাজ বিশ্লেষক

আরও পড়ুন

শিক্ষার আসল পরিবেশ কওমী মাদরাসায়

প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে শিক্ষার আলো ছড়ায় কওমী মাদরাসা : কাজী জাফরুল্লাহ

প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন কওমী মাদরাসা স্বীকৃতি পরিষদের

উন্নয়নের ছোঁয়া কওমী মাদরাসাতেও : আল্লামা মাসঊদ

কওমী মাদরাসার মেধাবীদের দেশের নেতৃত্ব দিতে গড়ে তুলতে হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মাদরাসায় কিছু জঙ্গি— বেফাক মহাসচিবের বক্তব্যে কওমীতে হতাশা

‘স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বলে বিএনপি-জামায়াত কওমীদের ব্যবহার করেছে’

যুগ-চাহিদা অনুযায়ী মাদরাসা সিলেবাসকে ঢেলে সাজাতে হবে

 

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com