পৃথিবীর অন্তর্লোক
এই পৃথিবী এক ধ্বংস গহ্বর
শুনেছি এখানে কোন এক কালে লোকালয় ছিল
এখানে মানুষ নামের অদ্ভুত সুন্দর এক প্রাণী ছিল
গাঢ় সবুজ উদ্যানে নানা রঙের ফুল ফুটত
আকাশে আকাশে বিহঙ্গ উড়ত সেই মানুষের মনোরঞ্জনে
পৃথিবীতে এক সোনালী সময়ের ইতিহাস লেখা হতো
হৃদয়ের অভিব্যক্তি তুলে ধরা হতো পংক্তিমালায়
নানান উৎসবের আয়োজন হতো পৃথিবী নামক সেই গ্রহে।
দুঃখ ছিল জরা ছিল তবু সেখানে মানুষের পায়ের ছোঁয়ায় হেসে উঠত বসুন্ধরা
এক দিন এখানে রঙের বাহার ছিল
প্রতিটি কথায় ছড়াত সর্গীয় সুবাস
প্রতিটি ঘরে ছিল আনন্দ মিছিল
সভ্যতার চূড়া স্পর্শ করেছিল পৃথিবী একদিন
আজকে পথের ওপর দেখলাম কুকুরের মত মরে পড়ে আছে মানবতা
মানুষের মুখোশ পরা একদল হায়েনার রাজত্ব চলছে-
এখানের প্রতিটি প্রান্তরে প্রাসাদে;
শুনেছি নকল মানবতাকেই সংবর্ধিত করা হবে এখন থেকে এই নগরের সভা সমাবেশে।
আকসার আলেম অজ্ঞতায় ভরছে কলঙ্ক কলস
ফুলেল সংবর্ধনায় বরিত হবেন উঁচু স্তরের পশুবৃন্দ।
দুর্বোধ্য সকাল
আমি বুঝতে পারি না এসব অবসন্ন সকাল
সূর্যের আলো বাধা পড়ে মেঘে
মুখের ওপর নেমে আসে চুলের ছায়া
কালো আধারে ছেয়ে যাওয়া দিগন্ত রেখা; আমি তাকাতে পারি না অন্ধকার কোন নীলিমায়।
বিষাদসাগর ডুবিয়ে দেয় সব ভাবনা বিষণ্ন নিসর্গে
উত্তাল করে রাখে মনদরিয়া মরমে মরমে
আমি এক পৃথিবী সুখের সমান দুঃখ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকি
মাটির বুকে আঁকি মহাকাব্যিক উপাখ্যানের চিত্র।
আমাকে এক টুকরো প্রেম দাও
আমাকে এক বিন্দু স্বপ্ন দাও
এক পেয়ালা আনন্দের বরফকুচি
একটু স্ফুলিঙ্গ এবং বুকের গভীরে বিরাট দীর্ঘশ্বাস
শেষ না হওয়া পথের বাক স্থির হয়ে আছে,
একটি পাখি অকারণ গেয়ে চলেছে…
উপাখ্যানটি এখনও সমাপ্ত হয়নি
অথচ দুখি মানুষটির অন্তরে ঝড় শেষের শান্ত ভাব।
বেদনার জল গড়িয়ে শ্রাবণের নদী
লেক পাড়ি দিয়ে ঝর্নার ধারা দেখি-
শক্ত মাটি সিক্ত করে
পাথরখণ্ড ভেঙে বিমর্ষতার প্রাসাদ
সৌরলোকে অন্য রকম রহস্যময় রোদ বৃষ্টি।
লাওহে মাহফুজে ফেরেস্তাদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ঐতিহাসিকগণ
হাজার পৃষ্ঠা লিখে চলেছেন প্রতিনিয়ত;
ভাগ্য লিখন সেক্টরে যেন শুনছি কলম চালনার খসখস শব্দ।
তবু সেখানে অনেক দুঃখ গাঁথাই স্থান পায়নি।
আমার আজকের সকালের
দুর্বোধ্য কথামালা
লিখা হয়নি
পৃথিবীর কোন ইতিহাসগ্রন্থে,
অন্তর গহীনের গ্লানীর সুদীর্ঘ ইতিহাস গ্রন্থিত হয়নি
ভূলোক দ্যুলোকের কোন সংরক্ষিত ফলকে।


