পাথেয় রিপোর্ট : বিএনপির রাজনীতি হলো হত্যা, খুন আর ষড়যন্ত্র মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে ২০০১-এ বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসে। রাজাকারের গাড়িতে জাতীয় পতাকা তুলে দেয়। প্রধানমন্ত্রী হয়েও কালো টাকা সাদা করেছিলেন। আজ যে ড. কামালের সঙ্গে বিএনপির ঐক্য হয়েছে তা মিলের কারণেই হয়েছে। কারণ ড. কামালও কালো টাকা সাদা করেছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পদ্মা বহুমুখী সেতু মেগাপ্রকল্পে অর্থায়ন বন্ধে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ষড়যন্ত্রকারীদের এই সেতু নির্মাণের মাধ্যমে যথোপযুক্ত জবাব দেয়া হবে। সাথে সাথে এই মেগা প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে যারা বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ এবং উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করতে চেয়েছেন তাদেরকে যথোপযুক্ত জবাব দেয়া হবে।
১৪ অক্টোবর রোববার পদ্মা সেতুর ৬০ শতাংশ সম্পন্ন হওয়ার ফলক উন্মোচনের পর মাওয়া টোলপ্লাজার কাছে গোলচত্বরে এক সুধী সমাবেশে ভাষণদানকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।
ফরিদপুর, শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও শিবচরের জনগণকে আগামী নির্বাচনে নৌকায় ভোট দিয়ে আবারও সরকার গঠনের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, নৌকা মার্কায় ভোট দিলে দেশের উন্নয়ন হয়, ক্ষমতার ধারাবাহিকতা থাকলে দেশের উন্নয়ন হয়। দেশের মানুষ পেট ভরে খেতে পারে, লেখাপড়া করতে পারে, বিনামূল্যে ওষুধ পায়। আমার চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই। আপনারা যাতে ভালো থাকতে পারেন, দেশের মানুষ যেন ভালো থাকে এটাই মূল লক্ষ্য।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বব্যাংকের গড়িমসিতে পদ্মা সেতুর বাস্তবায়ন ২ বছর পিছিয়ে গেছে। আমাদের কিছু মানুষসহ অনেকের মাঝে এ ধারণা হয়েছিল যে, বিশ্বব্যাংকের টাকা ছাড়া বাংলাদেশের পক্ষে এই সেতু নির্মাণ করা সম্ভব হবে না। সে সময় কেবলমাত্র মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী আমাদের আশ্বাস দিয়েছিলেন এবং তিনি এ প্রকল্পের প্রোফাইল তৈরির জন্য তার একজন উপদেষ্টাও পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু আমার পিতার মতো আমারও বাংলাদেশের জনগণের শক্তির উপর অগাধ আস্থা রয়েছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, তারাই আমার সবচেয়ে বড় সাহায্যকারী। জনগণের অনুপ্রেরণায় ও তাদের শক্তির ওপর আস্থাশীল হয়ে আমরা এই মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছি।
প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতুকে “গর্বের সেতু” হিসাবে উল্লেখ করে বলেন, সেতুটি সবচেয়ে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও উপকরণ দিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে। সেতুর উপর ডেক দিয়ে মোটরযান ও নিচের ডেক দিয়ে রেল চলাচল করবে। সেতুটি নির্মিত হলে দক্ষিণ অঞ্চলের ১৯টি জেলার সাথে সরাসরি রাজধানী ঢাকার সড়ক ও রেল যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এই জেলাসমুহের জনগণের জীবন-যাত্রার মান বৃদ্ধি পাবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।
তিনি বলেন, অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বিশ্বের ৫টি দেশের একটি বাংলাদেশ। দেশজ উৎপাদন হিসেবে বিশ্বের ৪৩তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। ২০১৮ সালে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের যাত্রা শুরু করেছি। দেশের অর্থনীতি এখন প্রায় ৮ লাখ কোটি টাকারও বেশি। উন্নয়নের ৯০ ভাগ কাজই নিজস্ব অর্থায়নে করছি। এবার প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ। বর্তমানে মূল্যস্ফীতি ৫.৪০ শতাংশ। মাথাপিছু আয় ২০০৫-০৬ সালের ৫৪৩ মার্কিন ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে এখন ১৭৫১ ডলার। দারিদ্র্যের হার ২০০৬ সালের ৪১.৫ শতাংশ থেকে এখন ২১.৮ শতাংশ। অতি দারিদ্র্যের হার ১০ শতাংশ। প্রায় দেড় কোটি মানুষের কর্মসংস্থান। ৫ কোটি মানুষ মধ্যবিত্ত শ্রেণিতে উন্নীত। ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করছি। এক কোটি লোকের কর্মসংস্থান হবে। বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২০ হাজার মেগাওয়াট। ৯০ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ পাচ্ছে। ১২৩টি বিদ্যুৎকেন্দ্র। স্বাস্থ্যসেবা এখন মানুষের দোরগোড়ায়।


