২৬শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ২৫শে জিলকদ, ১৪৪৩ হিজরি

বিশ্বশান্তি ও ঐক্য কামনায় তাড়াইল ইজতেমার আখেরি মোনাজাত

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : নেক ও এক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ইহকালে শান্তি, পরকালে মাগফেরাত এবং মুসলিম উম্মাহর সুখ-শান্তি, ঐক্য ও সমৃদ্ধি কামনা করে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে কিশোরগঞ্জের তাড়াইলের বেলঙ্কা জামিয়াতুল ইসলাহ ময়দানে আয়োজিত তিন দিনব্যাপি ইসলাহী ইজতেমা।

রোববার (৬ মার্চ) ১১টায় এই ইজতেমার আখেরি মোনাজাতে হাজার হাজার মুসল্লি অংশ নেন। মোনাজাত পরিচালনা করেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, আওলাদে রাসূল, ফিদায়ে মিল্লাত মাওলানা সাইয়্যিদ আসআদ মাদানী (রহ.)-এর খলিফা, শাইখুল ইসলাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।

মোনাজাতের আগে ইসলাহী বয়ানে ইজতেমা শেষে বাড়িতে গিয়ে ইজতেমার আমলগুলোর প্রতি যত্নবান থাকার কথা বলে আল্লামা মাসঊদ আগত মুসল্লীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা এখানে যেসব আমল করেছি, সেসব আমল যেন বাড়িতে গিয়ে ভুলে না যাই। আমাদের এই আমলগুলো যেন অব্যাহত থাকে। আমরা এই আমলগুলো পরিবারের সবাইকে নিয়ে সবসময় করার চেষ্টা করবো, এই প্রতিজ্ঞা এখনই করি, ইজতেমার ময়দানে বসেই করি।

তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা জিকির করতে হবে কলবে জারি করতে হবে এবং আল্লাহকে সবসময় অন্তরে রাখতে হবে। যদি তুমি সর্বদা আল্লাহকে অন্তরে রাখতে পারো, তাহলে দুনিয়াতে শান্তি আসবে, এই ইজতেমায় আসার মূল লক্ষ্য হাসিল হবে। আর তুমি তখন ইবাদতে মজা পাবে। জান্নাত তোমার জন্য অপেক্ষায় রইবে।

আখেরি মোনাজাতের আগে আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ তাঁর সকল কার্যক্রম, প্রতিষ্ঠান, সংগঠন ও তাসাওউফের পরবর্তী প্রতিনিধি হিসেবে তাঁর জ্যেষ্ঠপুত্র মাওলানা সদরুদ্দীন মাকনুনের নাম উল্লেখ করে বলেন, আমার যত কাজ আছে, এই কাজের জন্য আমি সদরুদ্দীন মাকনুনকে জানেশীন ও দায়িত্বশীল হিসেবে নিয়োগ করে দিলাম। আপনারা সবাই তাকে সাহায্য-সহযোগিতা করবেন।

কান্নাকে একমাত্র দুআর ভাষা আখ্যা দিয়ে মাওলানা সাইয়্যিদ আসআদ মাদানী (রহ.)-এর এই খলীফা বলেন, দুআ সমস্ত ইবাদতের মূল, কিন্তু দুআর কোনো ভাষা নেই, একমাত্র কান্নাই দুআর ভাষা। দুআ করার সময় শিশুর মতো কাঁদবে। যা কিচ্ছু চাওয়ার কেঁদে কেঁদে আল্লাহর কাছে চাইবে। অবশ্যই আল্লাহ দুআ কবুল করবেন।

মোনাজাতে আল্লামা মাসঊদ যখন, ইয়া রব, ইয়া রব, মালিক, ও মালিক, ক্ষমা করো, রহম করো, গুনাহ থেকে বাঁচাও, কবুল করে নাও, কবুল করে নাও—বলে বলে কান্নায় ভেঙে পড়লেন, তখন উপস্থিত মুসল্লীর কান্নার আওয়াজে ভারী হয়েছিল তাড়াইলের আকাশ-বাতাস।

তিন দিনব্যাপি ইসলাহী ইজতেমায় আরও উপস্থিত ছিলেন হযরত কাসেম নানুতবী (রহ.) এর বংশধর, ইকরা টিভি ও আল খায়ের ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মাওলানা ইমাম কাসেম রশিদ আহমদ, দারুল উলূম দেওবন্দের হাদীস বিভাগের প্রধান মাওলানা আবদুল্লাহ মারুফী, রংপুরের পীর ও জামিয়া কাসিমিয়া দারুল উলুম ধনতলা মাদরাসা মুহতামিম মাওলানা হোসাইন আহমদ, জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম রামপুরার মাদরাসা মুহতামিম মাওলানা ইয়ইয়া মাহমুদ, জামিয়া ফয়জুর রহমান বড় মসজিদ ময়মনসিংহের মুহতামিম মাওলানা আব্দুল হক, আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া ইদরাতুল উলুম মাদরাসা মুহতামিম মাওলানা মুহাম্মাদ আলী ও খুলনা মাদানী নগর মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা ইমদাদুল্লাহ কাসেমী। ফিদায়ে মিল্লাত মাওলানা সাইয়্যিদ আসআদ মাদানী (রহ.)-এর খলীফা মাওলানা আব্দুস সুবহান, মাওলানা সাইয়্যিদ আসআদ মাদানী (রহ.)-এর খলীফা মাওলানা আব্দুস সালাম, জামিআ মাদীনাতুল উলুম দারুস সালাম মাদরাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওলানা মঞ্জুরুল হক চৌধুরী, ব্রিটেন থেকে আগত মাওলানা খালেদ হোসাইন, মুফতি আখতার হোসাইন, মাওলানা ইসহাক মুহাম্মাদ আবুল খায়ের, মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক সোবহানী কাকরাইল সার্কিট হাউজ মসজিদের খতীব ও জামিআ ইকরা বাংলাদেশের রঈস মাওলানা আরীফ উদ্দীন মারুফ, বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার মহাসচিব ও জামিআ ইকরা বাংলাদেশের সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওলানা আব্দুর রহীম কাসেমী, বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা ঢাকা মহানগরীর সভাপতি মাওলানা দেলওয়ার হোসাইন সাইফী, জামিআ ইকরা বাংলাদেশের সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওলানা হুসাইনু বান্না, ইকরা বাংলাদেশের প্রিন্সিপাল ও জমিয়তুল উলামা ঢাকা মহানগরীর নির্বাহী সভাপতি মাওলানা সদরুদ্দীন মাকনুন, জামিয়া আশরাফিয়া খাগডহর মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা তাজুল ইসলাম কাসেমী, জামিয়াতুল ইসলাহ মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা সাঈদ নিজামী, মাওলানা আবু তাহের, মুফতি ইবরাহীম শিলাস্থানী, মাওলানা হাবীবুল্লাহ মাহমুদ কাসেমী, মাওলানা জুনায়েদ কাসেমীসহ দেশ বরেণ্য অসংখ্য উলামায়ে কেরাম।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২২ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com