২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ৩০শে সফর, ১৪৪৪ হিজরি

ভালোবাসা প্রাপ্তির সবচেয়ে যোগ্য নবীজী সা. : আল্লামা মাসঊদ

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : দুনিয়াতে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ভালোবাসা প্রাপ্তির সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি বলে মন্তব্য করেছেন শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, শাইখুল ইসলাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।

তিনি বলেন, ৪ কারণে মানুষ দুনিয়াতে কোনো ব্যক্তি বা কোনো জিনিসকে ভালোবাসে। সেগুলো হলো— সৌন্দর্য, গুণাবলী, আত্মীয়তা ও অনুগ্রহ।

“আশ্চর্যজনকভাবে এই প্রত্যেকটা ক্ষেত্রেই নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুনিয়ার সবার চেয়ে এগিয়ে। এসব কিছু বিবেচনা করলে এ কথা সুদৃঢ় ভাবে বলা যায় যে, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামই পৃথিবীর মধ্যে ভালোবাসা প্রাপ্তির সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি।”

আজ শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর হাজীপাড়া ঝিল মসজিদ কমপ্লেক্সে জুমার বয়ানে আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ এসব কথা বলেন।

চারটি কারণের একটি ‘সৌন্দর্যে’ নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অবস্থান সম্পর্কে আল্লামা মাসঊদ বলেন, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন সৌন্দর্যের আধার। তাঁর শরীরের প্রতিটি অঙ্গ ছিলো পরিপূর্ণ। যেখানে যা থাকার কথা, ঠিক সেখানেই ছিলো তা। বড় লাবণ্যময় চেহারা ছিলো তাঁর চেহারা। যতটুকু সৌন্দর্য দরকার, ঠিক ততটুকুই ছিল।

আল্লাহ তাআলা দুনিয়াতে নবীজীর সব সৌন্দর্য প্রকাশ করেননি, ৭০ হাজার পর্দা দিয়ে তাঁর সৌন্দর্য আবৃত করে রেখেছিলেন। তাঁর মতো পরিপূর্ণ করে আল্লাহ তাআলা আর কাউকে সৃষ্টি করেননি, কেয়ামত পর্যন্ত কাউকে সৃষ্টি করবেনও না।

আল্লামা মাসঊদ বলেন, গুণাবলীর জন্য ভালোবাসতে হলে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চেয়ে যোগ্য আর কেউ নেই। পৃথিবীর সব ভালো ও উৎকৃষ্ট গুণাবলীর অপূর্ব সম্মিলন ঘটেছিল তাঁর পবিত্র সত্তার মাঝে। হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে, দুনিয়াতে তাঁর আগমন ঘটেছিল উন্নত চরিত্রের পরিপূর্ণতা দানের লক্ষ্যে। তাই তাঁর গুণাবলির দিকে তাকালে তিনিই হবেন ভালোবাসা প্রাপ্তির একমাত্র ও শেষ ব্যক্তি।

তেমনিভাবে তাঁর সাথে আমাদের গভীর আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। কারণ তিনি আমাদের নবী, আর আমরা সকলে তাঁর উম্মত। এমনকি এই উম্মতের উপর তাঁর রয়েছে বিশেষ ইহসান ও অনুগ্রহ। তিনি আমাদেরকে আল্লাহর সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। আমরা ছিলাম শিরকের আঁধারে নিমজ্জিত, মারামারি-হানাহানিতে লিপ্ত ও কলুষিত, জাহেলি সভ্যতার অন্ধকারে দিশেহারা-উদ্ভ্রান্ত। সেখান থেকে তিনি আমাদের বানিয়েছেন সৃষ্টিকুলের মাঝে সর্বশ্রেষ্ঠ। এই ইহসান আমরা ভুলি কী করে? এই ঋণ শোধ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

আরও পড়ুনঃ আল্লাহর পরে শ্রেষ্ঠ যিনি: এ এক আশ্চর্য অসীম পাঠ-মুগ্ধতা আমার

নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অন্তর থেকে ভালোবাসার আহ্বান জানিয়ে ফিদায়ে মিল্লাত রহ. এর এই খলীফা বলেন, ভালোবাসা হলো অন্তরের একটি আকর্ষণ। তাই শুধু মুখে মুখে বলাই ভালোবাসার জন্য যথেষ্ট নয়। মুখে স্বীকার করার পাশাপাশি অন্তর দিয়েও প্রিয় নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ভালোবাসতে হবে। জীবনের সর্বক্ষেত্রে নিজের প্রতিটি কাজের চেয়ে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রাধান্য দিতে হবে। তাহলে আশা করা যায়, কেয়ামতের দিন কঠিন পরিস্থিতির সময় তিনি আমাদের জন্য সুপারিশ করবেন।

নবীজীকে ভালোবাসা ঈমানের অংশ উল্লেখ করে এই আধ্যাত্মিক রাহবার বলেন, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ভালোবাসা ঈমানের অংশ। তাঁকে ভালোবাসা ছাড়া ঈমান পরিপূর্ণ হয় না। প্রতিটি ব্যক্তি ও জিনিস থেকে; এমনকি মা-বাবার চেয়েও নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বেশি ভালোবাসতে হবে। তবেই আমরা পরিপূর্ণ মুমিন হতে পারবো। আল্লাহ আমাদেরকে পরিপূর্ণ মুমিন হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমীন।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২২ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com