শনিবার শতাধিক ইয়াবা কারবারির আত্মসমর্পণ কক্সবাজারে
কক্সবাজার প্রতিনিধি : ইয়াবা রাজ্য হিসেবে খ্যাতি লাভ করা সেই কক্সবাজারের সৈকত নগরীর টেকনাফে শনিবার আত্মসমর্পণ করছে দেড়শতাধিক ইয়াবা কারবারি। ঘুরে ফিরে আবার সেই বদির ভাই-ভাগিনা, বেয়াইসহ পরিবারের অনেকেই থাকছেন।
আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এখন কক্সবাজারে অবস্থান করছেন।
মরণনেশা ইয়াবার কবল থেকে দেশকে রক্ষার জন্য দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসন নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। মাদকবিরোধী অভিযানে প্রতিদিন কোথাও না কোথাও ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা যাচ্ছে তালিকাভুক্ত ইয়াবা কারবারিরা। এই ‘বন্দুকযুদ্ধ’ নিয়ে সমালোচনাও হচ্ছে। তাই দেশকে মাদকমুক্ত করতে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে চিহ্নিত মাদক কারবারিদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সুযোগ দিয়েছে প্রশাসন।
এরই ধারাবাহিকতায় প্রথমবারের মতো ইয়াবা কারবারিরা আত্মসমর্পণ করতে যাচ্ছে। আজ সকাল ১০টায় টেকনাফ উপজেলার টেকনাফ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে এই আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠিত হবে। যেখানে প্রায় ১৬০ ইয়াবা কারবারি স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেতে আত্মসমর্পণ করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে।
পুলিশ জানায়, আত্মসমর্পণকারী ১৬০ ইয়াবা কারবারি পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। সকালে তাদের টেকনাফে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে প্রতীকী ইয়াবা ট্যাবলেট স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে তুলে দিয়ে তারা আত্মসমর্পণ করবে।
এই আনুষ্ঠানিকতার জন্য বৃহস্পতিবার থেকেই পুলিশের আইজি মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী কক্সবাজারে অবস্থান করছেন। আত্মসমর্পণকালে এলাকার জনপ্রতিনিধিসহ স্থানীয় গণ্যমান্যরা উপস্থিত থাকবেন।
ইয়াবা কারবারিদের আত্মসমর্পণের নির্দেশ ও সুযোগ দিয়ে গত বুধবার থেকে টেকনাফের বিভিন্ন জায়গায় মাইকিং করা হয়। এরই মধ্যে মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে। যেখানে ১০ হাজার লোকের ধারণক্ষমতা রয়েছে। পুরো মাঠে ত্রিপল দেওয়া হয়েছে, শেষবারের মতো শুক্রবার সকালে পুলিশ সুপার মঞ্চ এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, এরই মধ্যে দেড় শতাধিক তালিকাভুক্ত ও চিহ্নিত ইয়াবা চোরাকারবারি আত্মসমর্পণের জন্য জড়ো হয়েছে। তারা স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ পাবে।
পুলিশ হেফাজতে থাকা ইয়াবা কারবারিদের মধ্যে রয়েছে সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির ভাই আবদুর শুক্কুর, শফিকুল ইসলাম শফিক, আমিনুর রহমান ওরফে আবদুল আমিন, ফয়সাল রহমান, বদির ভাগিনা সাহেদ রহমান নিপু, আরেক ভাগিনা টেকনাফ পৌর কাউন্সিলর নুরুল বশর ওরফে নুরশাদ, ইয়াবা ডন হাজি সাইফুল করিমের দুই শ্যালক জিয়াউর রহমান ও আবদুর রহমান।


