খুলনার আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ দা.বা. এর ইসলাহী ইজতেমা: আমার স্বপ্নময় বিশ ঘন্টা
মুহাম্মাদ আইয়ুব ❑ গত বুধবার (১১ নভেম্বর) সকাল সাতটায় উস্তাযে মুহতারাম শায়খ সদরুদ্দীন মাকনুন সাহেব ফোন দিলেন। আব্বার সাথে আমরা ভাঙ্গা হয়ে খুলনা যাচ্ছি, তুমি ইমদাদুল্লাহ কাসেমী সাহেবের মাদ্রাসায় (জামিআ মাদানিয়া আসআদুল উলূম মাদানীনগর) মাগরিব পড়বে। মনটা আনন্দে নেচে উঠল। দীর্ঘ দু’মাস পর আবারও বড় হুজুরের (আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ দা.বা.) সোহবতে সময় কাটানোর মোক্ষম সুযোগ তাহলে পাচ্ছি। এ যে মেঘ না চাইতে বৃষ্টি!
দিনের সমস্ত কাজকাম সারতে সারতে দুপুর তিনটা বেজে গেল। কবি বন্ধু আদিল মাহমুদ আর মুফতি আব্দুস সালাম ভাইয়ের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করছিলাম। এখান কোথায়? গাড়ি কোন স্টেশন ছেড়ে আসল ইত্যাদি। দুপুর ১২টায় জানতে পারলাম তারা এখনো পদ্মার বুকে ভেসে বেড়াচ্ছে। আব্দুস সালাম ভাই বললেন, আমাদের গাড়িতে জায়গা আছে তুমি মাকনুন সাহেব হুজুরকে বলে আমাদের সাথে যেতে পার।
কালক্ষেপণ না করে সাথে সাথে মাকনুন সাহেবকে ফোন দিলাম। আমার নিশ্চিত বিশ্বাস হুজুর অনুমতি দিয়ে দেবেন। আমার জগতে মাকনুন সাহেবই এমন এক মানুষ যার অভিধানে বোধহয় ‘না’ বলতে কোন শব্দ নেই। শেষমেশ আমার বিশ্বাসের জয় হলো। সন্ধ্যা নাগাদই বড় হুজুরের গাড়ি বহর গোপালগঞ্জের মাটি ছুঁইল। আমি পুলিশ লাইন থেকে সফরের গর্বিত সদস্য হয়ে গেলাম।
বেদগ্রাম জামে মসজিদে মাগরিবের নামাজের জন্য যাত্রাবিরতি। আমরা জামাতের শরিক হলাম। নামাজের পর মাকনুন সাহেব বললেন, জলদি আব্বার সাথে দেখা করো। আমি তাড়াতাড়ি বড় হুজুরের পিছু পিছু যেয়ে সালাম দিলাম। হুজুর আমাকে দেখে দাড়িতে হাত দিয়ে বললেন, ‘মেরে পিয়ারে’ কেমন আছিস?
ছাব্বিশ বছরের হায়াতে এটাই আমার শ্রেষ্ঠ শব্দ পুরষ্কার নাকি সব মিলিয়ে সেরা পুরষ্কার এই নিয়ে দ্বিধায় পড়ে গেলাম। হাল পুরসির পর আমরা সবাই যার যার সিটে গিয়ে বসলাম। দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম আলেম মুফতি ইমদাদুল্লাহ কাসেমী সাহেবের সাজানো বাগান জামিআ মাদানিয়া আসআদুল উলূম মাদানীনগরের দিকে। আমরা সন্ধ্যা সাতটায় খুলনায় পৌঁছি। ঐখানে পৌঁছেই চব্বিশ ঘন্টার আমলের দায় দায়িত্ব বন্টন করা হয়। তারপর আমরা সবাই ফ্রেশ হয়ে হালকা নাস্তা খেয়ে এশার নামাজের প্রস্তুতি নিই।
আমাদের বড় হুজুরের যতগুলো আকর্ষণীয় গুণ আছে তন্মধ্যে অন্যতম শীর্ষ হচ্ছে গবেষাণালব্ধ বয়ান। তাঁর ক্ষেত্রে চর্বিত চর্বণ বলে কোন কথা নেই। যেহুতু তিনি মুফাককিরে ইসলাম; দেশ জাতীর পরকালীন সুখ শান্তি কল্যাণ ভাবনায় বিভোর থাকেন। নিত্য নতুন ফেরকা, ধর্মের নামে বিধর্মীদের আস্ফালনের প্রতি সবিশেষ নজর রেখে দেশ ও জাতীকে সতর্ক করেন, তাই বয়ানে ঘুরেফিরে একই কথা বারবার আসে কম।
এশার নামাজের পর দুরুদ শরীফের আমলের পর হুজুর বয়ান শুরু করেন। আজকের বয়ান ছিল দুরূদ শরীফের ফজিলত, লাভ, গুরুত্ব ইত্যাদি সম্পর্কে। এই বয়ানে তিনি বলেন, ‘বেশি বেশি দরূদ পাঠ করা নবীজী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সন্তুষ্টি লাভের একমাত্র মাধ্যম। নবীজী (সা.) ভালোবাসার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন দুরুদ পাঠ করা। এটা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল। এ আমলের মাধ্যমে একসঙ্গে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সন্তুষ্টি লাভ করা যায়। এই পৃথিবীতে নবীজী (সা.) থেকে এই উম্মতকে কেউ বেশি ভালোবাসেনি এবং কেউ চেষ্টা করলেও নবীজী থেকে বেশি ভালেবাসতে পারবে না। পেয়ারে নবীর এত প্রেম, এত ভালোবাসার পরেও আমরা তাঁর আদেশ-নিষেধ মানি না। তাঁর সুন্নত পালন করি না। তাঁর দেখানো পথে হাঁটি না। তাঁর উপর দরূদ পাঠ করি না।’
প্রতিদিন নির্দিষ্ট একটা সময় আল্লাহ ও তাঁর নামের জিকির করার কথা উল্লেখ করে হুজুর বলেন, ‘পৃথিবীর সবচেয়ে মধুর শব্দ ‘আল্লাহ ও তাঁর নামের জিকির’। আল্লাহ নামের জিকিরের স্বাদ, আল্লাহ নামের স্বাদ কখনো কমে না, বরং যত বেশি বেশি করবে ততো স্বাদ বৃদ্ধি পাবে। আল্লাহর নামের জিকিরে কখনো বিরক্তিও আসে না। যে ব্যক্তি যত বেশি জিকির করবে সে আল্লাহর কাছে ততো প্রিয় হতে থাকবে। দুনিয়া ও আখেরাতে আল্লাহ ও আল্লাহর নামের জিকিরের চাইতে মধুর কোন শব্দ নেই।’
হুজুর আরও বলেন, ‘নবীজী (সা.) এর উসিলা দিয়ে দুআ করলে দুআ কবুল হয়। যদি কোন বান্দা বালা-মসিবতে সময় রাসূল দেখানোর নির্দিষ্ট আমল করে দরূদ শরীফ পড়ে নবীজী (সা.) এর উসিলা দিয়া দুআ করে আল্লাহর কাছে কিছু চায়, তাহলে অবশ্যই আল্লাহ এই বান্দার দুআ কবুল করবেন, তার চাওয়া-পাওয়া কবুল করবেন, বালা-মসিবত দূর করবেন।’ বয়ানের ব্যাপ্তী ছিল প্রায় আধঘন্টাব্যাপী। তারপর হৃদয়গ্রাহী মোনাজাতের মাধ্যমে হুজুরের বয়ান শেষ হয়।
এরপর আমরা এক হই খাবারের দস্তরখানে। বড় হুজুর ছিলেন খাস কামরায়। আর আমরা সফরসঙ্গীরা মেহমানখানায়। আমাদের মধ্যমণি সদরুদ্দিন মাকনুন সাহেব। ভোজনরসিক মুফতী ইমদাদুল্লাহ কাসেমী সাহেবের মেহমান বলে কথা। আবার আছেন তাঁর মিয়া ভাই! রূপচাঁদার ফ্রাই থেকে শুরু করে দেশীয় হরেক রকম মাছ, গোস্ত আর সালসাবীলও মিষ্টি মহলের মিষ্টান্ন দিয়ে দস্তরখান ছিল ঠাসা। সদরুদ্দিন মাকনুন সাহেবের আখলাক, অধিনস্তদের প্রতি খাদেম সুলভ আচরণে তার প্রতি কুরবান হয়ে যেতে মন চায়। কোথায় আব্বাজানদের সাহেবজাদা আর কোথায় শায়খ আল্লামা মাসঊদের দা.বা. এর সাহেবজাদা। নিরহংকারী, বিনয়ী, মিষ্টভাষী, মৃদুলাপীসহ যত উত্তম অভিধায়ের ডোরেই তাঁর বাঁধি না কেন তা যথেষ্ট নয়।
রাতের আঁধারে খুলনা শহরটা একটু দেখতে বেরিয়েছিলাম। জীবনে এই প্রথম খুলনায় আসা কিন্তু শহরটা ভ্রমণ পিয়াসী আমাকে তার রূপে মুগ্ধ করতে পারেনি। দক্ষিণবঙ্গের রাজধানীতুল্য খুলনা শহর পরিচ্ছন্নতার বড়ই অভাব। সিলেট, চট্টগ্রাম যেভাবে সাজানো তার চারভাগের একভাগ থাকলেও মনটাকে স্বান্তনা দিতে পারতাম। তবে খুলনার মাদানীনগর মাদ্রাসাটা আমায় দারুণ টেনেছে। এখানকার ছাত্ররাও বেশ চটপটে পরিপাটি। স্মার্টনেসের নামে এখানকার পাঞ্জাবী, জুব্বাগুলোতেও কলরবের বিকৃতরুচির ছাপ দেখলাম। আল্লাহ পাক পোশাক বিকৃতির ফেতনা থেকে আমাদের সবাইকে হেফাজত করুন।
খুলনায় আসবো অথচ চুইঝাল দিয়ে রান্না করা গরুর মাংস খাবো না তা কি হয়। কবি আদিলের আপন বেস্ট ফ্রেন্ড মাওলানা মিকাঈলের আন্তরিক অভ্যর্থনায় আমরা সদরুদ্দিন মাকনুন, মুফতি আবদুস সালাম, বড় ভাই শেখ মুহাম্মাদসহ আরো অনেকে সদলবলে গিয়ে চুই ঝালের তৃষ্ণা মিটিয়ে আসলাম।
বিছানায় যেতে যেতে রাত আড়াইটা বেজে গেল। তার আগে প্রায় দুই ঘন্টা মেহমানখানার সামনে কাসেমী সাহেব, মাকনুন সাহেব ও আবদুস সালাম সাহেবের সাথে আমরা দুইতিনজন সমসাময়িক অনেক বিষয়েই কথা হলো। ফজরের পর সূরা ইয়াসিনের আমল, ইশরাক ইত্যাদি আমলের পর যে যার মতো বিশ্রাম গেল। নাস্তার পর সকাল দশটায় তালিম। তালিম করলেন বড় হুজুর স্বরচিত গ্রন্থ ‘ঈমান’ থেকে।
তা’লিমের আগে ভূমিকা সরূপ তালিমের গুরূত্বের কথা তুলে ধরেন যে, আল্লাহ পাক রাসূল (সা.) কে যতগুলো দায়িত্ব দিয়েছেন তার মধ্যে অন্যতম প্রধান কাজ হচ্ছে তালিম। মুসলমান হবে আর জাহেল হবে এটা কখনো হতে পারে না। তাই তালিমের সুন্নত আমভাবে আমাদের সমাজে চালু করতে হবে।
হুজুর তাঁর বয়ানে আরো গুরুত্বপূর্ণ যে কথাটি তুলে ধরেছেন তা হচ্ছে, ইসলামে বয়ান পরে কাজ আগে। আর আমরা উল্টা বানিয়ে ফেলেছি। আমলকে ওয়াজ বানালে বিষয়টা কঠিন। নবীজী (সা.) কে ওয়াজ না করে আগে জীব্রাঈল (আ.) ওযুর পদ্ধতি দেখিয়েছেন, নামাজ শিখিয়েছেন। আর নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কেরামকে হাতে কলমে ধরে ধরে শিখিয়েছেন। বয়ান সহায়ক জিনিস, মৌলিক জিনিস নয়।
ওয়াজের দ্বারা দ্বীনের তালিম হয়নি। তালিম হয়েছে সুহবতের দ্বারা। ওয়াজের দ্বারা ইসলাম পালন কঠিন। ইউরোপের ওরা মনে করে মুসলমান মানেই চার বিয়ে। অথচ এক্ষেত্রে মুসলমানদের আমল হচ্ছে লাখে একজনের যে, সে চার বিয়ে করে। এমন কেন মনে করে? কারণ ওরা মুসলমানদের আমল দেখেনি দেখেছে ওয়াজ।
সাথে সাথে তিনি ইলমের জন্য সোহবতের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন যে, ইলমের জন্য সুহবত অত্যন্ত আবশ্যকীয়। সুহবত হতে হবে ইলম ওয়ালার সাথে যে আল্লাহওয়ালা। ইলম শুরুই হয়েছে সুহবত দ্বারা। সাহাবায়ে কেরামকে সাহাবা বলা হয় সোহবতের কারণে। মওদুদীর দ্বারা মানুষের ঈমান আমলের ক্ষতি হয়েছে তার সুহবত না থাকার কারণে। সে ইলম পেয়েছে কিন্তু ইলমে নাফে’ পায়নি। যে কারণে তার ‘খেলাফত ও মুলকিয়াত’ পড়ে কেউ যদি বলে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুহবতে থেকে ত্রিশ বছর পর্যন্ত ইসলাম টিকে থাকতে পারেনি এখন ইসলাম একটি ব্যর্থ জীবন ব্যবস্থা? তাহলে অবাক হওয়ার কিছুই নেই। কারণ মওদূদীর ইলম ইলমে নাফে’ নয়। সে কো আল্লাহওয়ালা আলেমের সোহবতে যায়নি।
ওয়ায়িজনদের বেশির ভাগই এখন ভালো না, তাদের নিয়ত নেত না। তবে যারা আল্লাহর জন্য ওয়াজ করে তারা খারাপ নয়। ইউটিউব, ওয়াজ, বই এগুলো হচ্ছে ইলমের সহায়ক। আর আসল হচ্ছে আগে আমল। নাপাক নুতফা থেকে আল্লাহ তার কুদরতের দ্বারা ভালোবাসার বস্তু বানাইছেন আর তুমি যখন আমল দ্বারা নিজেকে দামি বানাবে তখন তুমি যেখান দিয়ে যাবে ফেরেশতরারা ঐ জমিন নিয়ে গর্ব করবে।
ঈমান মৌলিক আর যুক্তি সহায়ক। সুতরাং আমার আজকের বয়ানের মোট পয়েন্ট তিনটি। ১. আমল আগে বয়ান পরে। ২. ইলমের মাধ্যম হিসেবে সুহবত গ্রহণ করতে হবে। ৩. ঈমান শিখতে হবে আগে নিজেকে দেখে, তারপর আশপাশে তারপর আল্লাহ।
দেখতে দেখতে মোমের মতো ২৪ ঘন্টা গলে গেল। বিদায়ের ঘন্টা বেজে উঠল। বিদায়ের আগে কাসেমী সাহেবের অনুরোধে উলামা তোলাবাদের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত পরিসরে হুজুর বয়ান করলেন। বয়ানে সবাইকে গুরুত্বপূর্ণ এক মেসেজ দিলেন যে, ‘জনসাধারণকে নেতৃত্ব দেয়া উলামায়ে কেরামের কাজ ও দায়িত্ব উল্লেখ করে বলেন, নেতৃত্বের জন্য চারটি গুণ অবশ্যই থাকতে হয়। এক. অভিজ্ঞতা। অভিজ্ঞতা ছাড়া নেতৃত্ব দেয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না। দুই. প্রজ্ঞা। প্রজ্ঞা ও হিকমাহর সাথে বাস্তবের সামঞ্জস্যতা রাখতে হয়। তিন. দূরদর্শীতা। চার. সুষ্ঠু পরিকল্পনা। বাংলাদেশি উলামায়ে কেরামের মধ্যে এ চারটা গুণ সম্পন্ন কোন রাজনৈতিক নেতা দেখা যায় না। শুধু রাজনীতি না, অন্যান্য ক্ষেত্রেও তাই। অথচ উলামায়ে কেরামকে কখনো অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা, দূরদর্শীতা ও সুষ্ঠু পরিকল্পনার সামঞ্জস্য রেখে নেতৃত্ব দিতে দেখা যায়নি।’
তিনি আরো বলেন, ‘ইলমে নাফে হাসিল হয় শায়েখের সুহবতের মাধ্যমে, সুহবত ছাড়া অন্য কোন পন্থায় ইলমে নাফে হাসিল হয় না। যদি কেউ কেবল বই পড়ে কিংবা ইউটিউবে বয়ান শুনে ইলম হাসিল করতে চায়, তাহলে তার ইলম হাসিল হবে। কখনো যদি কিছুটা ইলম হাসিল হয়ে যায়, তাহলেও সেই ইলম নাফে হবে না।’
তিনি বলেন, ‘মওদুদির অনেক ইলম ছিল, কিন্তু তার ইলম ইলমে নাফে ছিল না। কারণ সে শায়েখের সুহবতে থেকে ইলম হাসিল করেনি, একা একা কেবল বই পড়ে ইলম হাসিল করেছে। আর এজন্য তার ইলমে উম্মতের কোন ফায়দা হয়নি, বরং উম্মতকে বিভ্রান্ত করেছে।’
বয়ানের পর সাক্ষাৎ পর্ব শুরু হলো। একটা সময় নিরিবিলি পেয়ে হুজুরের কানের কাছে গিয়ে বললাম, আমাকে একান্ত কিছু নসীহত করুন। হুজুর ভারতের এক অখ্যাত উম্মত দরদী মাওলানা সাহেবের প্রসঙ্গে এনে বললেন যে, উনি সারাজীবনে গ্রামে কাটিয়েছেন কয়েকটি মৃত মক্তব জীবিত করেছেন অথচ সমগ্র হিন্দুস্তানের উলামায়ে কেরাম তাঁকে শ্রদ্ধা করতেন। আজ সবাই শহরমুখী হলে হবে না। গ্রামের মানুষেরও হাল ধরতে হবে। মাওলানা শামছুল হক্ব ফরিদপুরী (রহ.) শহরের সব কিছু রেখে অজপাড়াগাঁয়ে মাদ্রাসা করলেন। এতে কি উনার ইজ্জত সম্মান কমেছে? বরং উনার কারণে দক্ষিণবঙ্গ আলোকিত হয়েছে। সুতরাং নিজের এলাকায় থেকে কাজ করা এখন অপরিহার্য দায়িত্ব বুঝলে?
শেষে আমার আফফান সাওবানের জন্য দোয়া চেয়ে হুজুর থেকে বিদায় নিলাম। সামগ্রিকভাবে বিশ ঘন্টার এ সফর আমার জন্য বিরাট বড় খোদা প্রদত্ত নেয়ামত। আমৃত্যু সেজদায় অবনত থাকলেও শুকরিয়া জানানো হয় না। আল্লাহুমা লাকাল হামদু কুল্লুহু, আল্লাহুমা লাকাশ শুকরু কুল্লুহু।
লেখক : খতিব, শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক


