কওমী সন্তানদের প্রশিক্ষণ দিলে দেশের উন্নয়ন হবে : আল্লামা মাসঊদ

কওমী সন্তানদের প্রশিক্ষণ দিলে দেশের উন্নয়ন হবে : আল্লামা মাসঊদ

কওমী সন্তানদের প্রশিক্ষণ দিলে দেশের উন্নয়ন হবে : আল্লামা মাসঊদ

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : একসেস টু ইনফরমেশন দেশের কওমী মাদরাসা শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে নিজের কাজের বাইরেও তাদের আয় রোজগারের পথ খোলে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, শাইখুল হাদীস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ। তিনি বলেছেন, কাজের মধ্যে কোনো দোষ নেই। বরং একজন কৃষকের মূল্য আমার কাছে অনেক বেশী। দেশের সর্বোচ্চ কর্মকর্তাও সরকারের দাসানুদাস। কিন্তু একজন দিনমজুর, কৃষক, চাষী ক্ষেতে খামারে কাজ করে দেশকে এগিয়ে দিচ্ছে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখছে। তাদের টেক্সের টাকায় সরকারি কর্মচারিদের বেতন-ভাতা হচ্ছে।

প্রবাসী শ্রমিক ও গার্মেন্টের নারী শ্রমিকদের দায়িত্বশীল কাজের প্রশংসা করে আল্লামা মাসঊদ বলেন, যে প্রবাসী শ্রমিক রোদে পুড়ে, পথে দাঁড়িয়ে, রাস্তা ঝাড়ু দিয়ে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখছে, তাকে আমরা কীভাবে ভুলে যেতে পারি? দেশের গার্মেন্টসে পোশাক কারখানাগুলোতেও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রেখে চলেছে। আমাদের উচিত হবে দেশের উন্নয়নে যারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলছে তাদেকে ভুলে না যাওয়া।

মঙ্গলবার (০৭ জানুয়ারি) বাদ জোহর সমাজ সেবা অধিদপ্তর আয়োজিত আগারগাঁওয়ে প্রধান অতিথির আলোচনায় মাওলানা সাইয়্যিদ আসআদ মাদানী রহ.-এর খলিফা, শাইখুল হাদীস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ এসব বলেন।

মাদরাসার তরুণ আলেম এবং মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিন যাদের অলস সময় পড়ে থাকে তাদেরকে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে নানাধর্মী কাজে যুক্ত করার আহ্বানও জানান তিনি।

একসেস টু ইনফরমেশন ও সমাজ সেবা অধিদপ্তর কওমী মাদরাসার শিক্ষার্থীদের নিয়ে ভাবায়, দক্ষতা উন্নয়নে তাদেরকে সংযুক্ত করায় ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ কর্তৃপক্ষকে অভিনন্দন জানান।
সমাজ সেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক গাজী মুহাম্মদ নুরুল কবীর বলেন, কওমী মাদরাসার শিক্ষার্থীদের মধ্যেও অনেক প্রতিভাধর লুকিয়ে আছে। আমি আপনাদেরর মূলস্রোতে আছেন বলেই মনে করি। তবে যুগের চলনসই হয়ে বহুমাত্রিক কার্যপরিধি বিস্তৃত করাটাও সময়ের দাবি।

দক্ষতা অর্জনের পথে কওমী তরুণদের স্বাগত জানিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ডক্টর আবদুল মান্নান বলেন, আমি অনেক খুশি কওমী মাদরাসার আলেমগণ দক্ষতা অর্জনের মিছিলে শামিল হয়েছেন। আমি অভিভূত হয়েছি, কওমী সন্তানরা কম্পিউটার গ্রাফিক্সে ভালো করছে। আমি মনে করি, তারা যেহেতু অনেকগুলো ভাষা জানেন, তাদের সুযোগও অনেক বেশী। তাদের মেধায় গভীরতা আছে বলে ইন্টারনেটে অনুবাদের কাজও করতে পারছে। আমি যখন শুনি, প্রশিক্ষিত হয়ে একজন উবার চালাচ্ছেন তখন আমি ভীষণ খুশি হই।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *