ক্রাইস্টচার্চে মা-বাবা যেভাবে শিশুর জীবন বাঁচালেন

ক্রাইস্টচার্চে মা-বাবা যেভাবে শিশুর জীবন বাঁচালেন

ক্রাইস্টচার্চে যেভাবে শিশুর জীবন রক্ষা করলেন বাবা

গুলির সামনে দাঁড়িয়ে শিশুকে আড়াল করেন বাবা

ক্রাইস্টচার্চে মা-বাবা যেভাবে শিশুর জীবন বাঁচালেন

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : আশ্চর্য বাবা আর মা। দুনিয়ার সব মা-বাবারা এমনই। গুলিলর সামনে দাঁড়িয়ে নিজের সন্তানকে আড়াল করে জীবনে বাঁচালেন তাকে। জুলফিকার সিয়াহ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম বাবার পুরস্কারটা পাওয়া উচিত। একজন শিশুকে রক্ষা করার এই দায়িত্ব মানসিকতা এটা নোবেল পাওয়ার মতো ক্ষমতা রাখে। এমন কথাই ঠাওর হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে সন্ত্রাসী হামলার সময় যখন একটানা গুলি করা হচ্ছিল তখন দুই বছর বয়সী শিশুর জীবন বাঁচাতে গুলির সামনে দাঁড়িয়ে ছেলেকে আড়াল করেছিলেন জুলফিকার সিয়াহ। লিনউড মসজিদে হামলার এ ঘটনায় দুই বছর বয়সী শিশুটি সামান্য আহত হলেও তাঁর বাবা মারাত্মক আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আহত জুলফিকার সিয়াহর অবস্থা গুরুতর, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রেখে তার চিকিৎসা চলছে। সিয়াহর আমেরিকান স্ত্রী আল্টা মারি বলেছেন, তাদের ছেলে আভেরোস সামান্য আহত, সে সুস্থ হয়ে উঠছে। মাত্র দুই মাস আাগে ইন্দোনেশিয়া থেকে নিউজিল্যান্ডে যায় সিয়াহর পরিবার।

বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তুলে ধরেছেন সিয়াহর আমেরিকান স্ত্রী আল্টা মারি। তিনি লিখেছেন, ‘লিনউড ইসলামিক সেন্টারে হামলার সময় আমার স্বামী আমাদের ছেলেকে আড়াল করেছিলেন। এতে তার অধিকাংশ গুলি লাগে এবং তিনি আমাদের ছেলের চেয়ে অনেক বেশি আহত হন।’

শুক্রবার জুমার নামাজের সময় ক্রাইস্টচার্চের আল নূর ও লিনউড মসজিদে বন্দুকধারীর হামলায় নিহত হয়েছেন ৫০ জন, যাদের মধ্যে চারজন বাংলাদেশি রয়েছেন। ওই হামলায় আহত আরও ৫০ জনের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা গুরুতর।

এদিকে বর্বরোচিত হামলার ঘটনাস্থল দুই মসজিদের দরজায় ফুলের তোড়া ও কার্ড নিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছেন ক্রাইস্টচার্চসহ আশপাশের বাসিন্দারা। এসব কার্ডে নিহতের জন্য শ্রদ্ধা নিবেদন করে তারা জানিয়েছেন তাদের অন্তরের কথাগুলো। কার্ডগুলোর কোনটিতে লেখা- ‘খুবই দুঃখিত। আমরা সবাই এমন নই।’

কোনোটিতে স্থানীয় রিয়ো ভাষায় লেখা- ‘কিয়া কাহা’ যার অর্থ ‘রুখে দাঁড়াও’।

শুধু কার্ড নয়, অনেকে রাস্তায় চক দিয়ে লিখেছেন- ‘ওরা কোনো দিন জিততে পারবে না। ভালোবাসাকেই বেছে নাও।’

অনেকে ফুলের তোড়ার সঙ্গে চিরকুট লিখে সেখানে নিজের ফোন নাম্বার দিয়েছেন। চিরকুটে লেখা রয়েছে- ‘পাশে আছি। আমাদের সঙ্গে কষ্ট ভাগ করে নিতে পার।’

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে জোড়া মসজিদে শুক্রবারের ওই বর্ণবিদ্বেষী হামলায় আক্রান্তদের পরিবারের সমবেদনা জানাতে এভাবেই বার্তা দিলেন স্থানীয়রা।

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *