আমিনুল ইসলাম কাসেমী : ইউটিউব আর ফেসবুকের কিছু পরিচিত মুখ, যারা একেক সময় একেক সুরত ধরেন। দুদিন পরপর খোলস পাল্টান। কখনো নায়কের অভিনয় করেন তারা। আবার কখনো ভিলেন বনে যান। দিনে নায়ক রাতে খলনায়ক। সুবিধাবাদ জিন্দাবাদ। মুনাফেকী কাকে বলে! পাক্কা মুনাফেক-চোগলখোর, যা কিছু আছে, সব লকব ওদের দেওয়া যাবে।
আমার উস্তাদে মুহতারাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ সাহেব একদিন বলেছিলেন, ফেসবুকটা হলো মুনাফিকিনদের কিতাব। ধ্রুব সত্য কথাটি হুজুর সেদিন বলেছিলেন। কেননা, যেভাবে মুনাফেকী চলে এখানে, তাতে সেই নবীর জামানার মুনাফিকদের থেকে এরা ভয়ংকর। তিলকে তাল বানাতে এদের সময় লাগেনা। যখন-তখন ওরা আজগুবী কথা বানাতে এবং সেটা প্রচার করতে দ্বিধাবোধ করে না।
ঐ মুনাফিকগুলো কাউকে ছাড় দেয়না। সকাল বেলা একজনকে বন্ধু বানালে বিকেলে তাকে দুশমন বানিয়ে দেয়। কোন বুকপিঠ তাদের নেই। আগাগোড়া সব ওদের সমান। লাজ- শরমের মাথা খেয়ে ফেলেছে ওরা। ঈমান বিক্রি করেছে, কলমবাজী আর চাপাবাজীতে।
সময়ের বিবর্তনে ওদের চরিত্রে একেক ফর্মুলার আবির্ভাব ঘটে
বড় আশ্চার্য লাগে, এগুলো কত্ত বড় কমবখত। ওদের বুকটাও কেঁপে ওঠেনা। আর সেই মুনাফিক গোষ্ঠির সাথে যোগ দেয় আমাদের কিছু অবুঝ লোকজন। ওরা আমাদের ভাই, আমাদের সন্তান, কিন্তু মুনাফিক চক্রের পাতানো ফাঁদে পা দিয়ে ফেলে। সেটা নিয়ে চরম ভাবে বাড়াবাড়ি করে।
দেখুন! মুনাফিক চক্র এত খতরনাক, ওরা সবদিকে থাকে, “সর্প হয়ে দংশন করে আবার ওঝা হয়ে ঝাড়ে”। সময়ের বিবর্তনে ওদের চরিত্রে একেক ফর্মুলা আবির্ভাব হয়।
তবে বোঝা যায়, সবচেয়ে বড় টার্গেট হলো ওদের, তারা ওলামায়ে হকের মধ্যে সব সময় ফাটল সৃষ্টি করতে চায়। বিশেষ করে ওলামায়ে দেওবন্দের মুখপাত্রদের মোটেও রেহাই দেয়না। নানা ফন্দি করে তারা। যাকে যে তরিকায় পারছে, তাকে সাইজ করার অপচেষ্টা। কারো পান থেকে চুন খসলে যেন আর রেহাই নেই। সঙ্গে ঝাপিয়ে পড়ে মুনাফিক গোষ্ঠি।
একটু খেয়াল করে দেখুন! কে বাদ আছে ওদের আক্রমণ থেকে? কখনো হাফীজুর রহমান ছিদ্দীক, কখনো মামুনুল হক, কখনো হাবিবুর রহমান মেসবাহ, সব সময় যেন একটা ভেজাল ওরা বাঁধিয়ে রাখে।
শুধু ইয়ং জেনারেশন নয়। আমাদের ছারে তাজ মুরুব্বীদের কারো কোন ভুল হয়ে গেলে,সেটা যেন মুহুর্তের মধ্যে ওরা ভাইরাল করে ফেলে। আর কিছু কমেন্টবাজ আছে, অকথ্য ভাষায় তারা কমেন্ট করতে থাকে।
বর্তমানে দেখছি, ওরা এখন লেগেছে হাবিবুর রহমান মেসবাহ এর বিরুদ্ধে। তিলকে তাল বানিয়ে,সত্য- মিথ্যার মিশ্রণ ঘটায়ে পুরো ফেসবুক দুনিয়া ভাইরাল করে দিচ্ছে। এর আগেও কয়েকবার তাঁর বিরুদ্ধে জবান দরাজী করেছিল কিছু লোক। কয়েকদিন চলার পরে সেটা বন্ধ ছিল। আবার নতুন করে শুরু হয়েছে দেখছি।
এরকম বিভিন্ন সময়ে নির্জলা মিথ্যাচার করে যায় কিছু লোক। আমাদের আলেমদের মাঝে ওরা ঝগড়া সৃষ্টি করে। ওরাই একজনের কথা আরেকজনের কাছে লাগিয়ে ফেতনার দ্বার উম্মোচন করে।
এজন্য সাবধান হোন। ফেসবুক আর ইউটিউব এর মুনাফিক চক্র থেকে দুরে থাকুন। ওরা যতই ভাল লিখুক আর ভাল বলুক, যারা দ্বিমুখী চরিত্র গ্রহণ করেছে, তাদের দ্বারা ইসলাম এবং মুসলমান নিরাপদ নয়। তারা ইসলামের দুশমুন, তারা জাতির দুশমুন।
আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন। আমিন।
লেখকঃ শিক্ষক ও কলামিষ্ট
আরও পড়ুনঃ


