বিচ্ছিন্নতাবাদীরা নিপাত যাক

বিচ্ছিন্নতাবাদীরা নিপাত যাক

বিচ্ছিন্নতাবাদীরা নিপাত যাক

মাওলানা আমিনুল ইসলাম :: আস্তে আস্তে সকল প্রতিভাবান আলেমদের মুখ থেকে বেরিয়ে আসছে, আসল কথাগুলো। একটু দেরীতে হলেও আমাদের মুরুব্বী আলেমগণ কওমীর বিষফোঁড়াদের চিনতে পেরেছেন। প্রথমে কথা তুলে ছিলেন আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ সাহেব। তিনি অত্যন্ত সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন। একদম যখন বিচ্ছিন্নতাবাদীরা ময়দানে লাগাতারভাবে দৌরাত্ম্য দেখাচ্ছিল, ঠিক তেমনিসময় গর্জে উঠেছিলেন তিনি। লাখো আলেম- উলামার সাক্ষরিত ফতোয়া বের করেছিলেন জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে। যেটা বিশ্বব্যাপি সমাদৃত হয়েছে।

আল্লামা মাসউদ সাহবের ফতোয়ার সমর্থনে আলেমগণ ঐকমত্য পোষণ করেন। কেউ কেউ চুপ থাকলেও তবে মৌন সম্মতি ছিল। কিন্তু প্রকাশ্যে সকলকে দেখা যায়নি। এই তো অল্প কিছুদিন আগে পাকিস্তানের আল্লামা তকী উসমানী সাহেব জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কড়া বক্তব্য দিলেন। হুবহু আল্লামা মাসউদের চিন্তা- চেতনার সাথে মিলে গেল। তকি উসমানী সাহেব বর্তমান বিশ্বের অন্যতম একজন ইসলামী স্কলার। তাঁর মুখ থেকে এমন কথা বের হওয়া মানে এক বিশাল ব্যাপার। তিনি যেহেতু বিষয়টা তুলে ধরেছেন, সুতরাং আর কোন হক্কানী আলেম এ বিষয় নিয়ে দ্বিমত করবেন বলে মনে হয় না।

গতকাল রাজবাড়ী সফরে এসে ছিলেন ঢাকার ঐতিহ্যবাহী জামেয়াতু উলুমিল ইসলামিয়ার মুহাদ্দিস, প্রখ্যাত আলেম এবং গবেষক, আল্লামা আব্দুল গাফফার সাহেব দামাত বারাকাতুহুম। তিনি রাজবাড়ীর দারুল উলুম ভাজন চালা মাদ্রাসায় ওলামায়ে কেরাম ও তালেবুল ইলমদের সামনে এক বক্তব্য পেশ করেন। অত্যন্ত চমৎকার উপস্থাপনা তাঁর। তিনি তো একজন ভাষাবিদ, সেটা আগে থেকে জানতাম। গতকালের বক্তব্য যেন আরো ভাষার দ্যুতি ছড়ালেন তিনি।

তাঁর বক্তব্যের বিষয় বস্তু ছিল, বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিয়ে। হাল জমানায় কওমী অঙ্গন এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এক শ্রেণির বিষফোঁড়া জন্ম নিয়েছে। যারা ইসলামকে বিকৃত করে চলেছে। জিহাদের মত একটা পবিত্র বিষয়কে কলুষিত করছে তারা।ওরা কওমী অঙ্গনে ঘাঁপটি মেরে আছে। মেধাবী ছাত্রদের টার্গেট করে মিসগাইড করে সব সময়। বহু ছাত্রকে গোমরাহীর দিকে ঠেলে দিয়েছে।

ওরা এমন বেপরোয়া। একদম বেয়াদব,বে-আমল, উশৃঙ্খল বানিয়ে দিচ্ছে নিরীহ ছাত্রদেরকে। আপন উস্তাদ এবং হক্কানী আলেম- উলামা সম্পর্কে তাদের কু ধারণা। আলেমদের তারা তাগুত বলে আখ্যা দিচ্ছে। হক্কানী পীর মাশায়েখ এবং যারা ইসলামী রাজনীতির সাথে জড়িত, তাদের গোমরাহ ফতোয়া দিতে কুণ্ঠাবোধ করে না।

এ বিষয় গুলো নিয়েই আল্লামা আব্দুল গাফ্ফার সাহেবের বক্তব্য ছিল। অত্যন্ত প্রান্জল ভাষায় উপস্থাপন করলেন। যেটা স্রোতাদের অভিভূত করল। তিনি হাদীসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, বড় জামাতের সাথে আমাদের থাকা উচিত। কোন বিচ্ছিন্নভাবে নয়। আলেমদের বড় জামাতকে ত্যাগ করে নয়। দু চারজন কওমীর বিষফোঁড়ার পাতানো ফাঁদে কখনো পা দেওয়া যাবে না। এত বড় জামাতকে তাগুত আখ্যা দিয়ে ওরা নিজেদের সহি দাবি করে থাকে। অথচ ওরা যে সহী, তার প্রমাণ আছে কোন?

ওদের বিরুদ্ধে সমালোচনা করলে, ওদের ভুল ধরলে, ওরা এক যোগে আলেমদের গালমন্দ করতে থাকে। অথচ যারা হক- হক্কানিয়্যাতের দাবিদার, তাদের তো এমন আখলাক হতে পারে না। মাওলানা আব্দুল গাফফার সাহেব, ঐ সকল বিচ্ছিন্নতাবাদীদের চিন্তা- চেতনা থেকে ফিরে আসতে বললেন। যদি কারো বড় আলেমদের জামাতকে ভাল না লাগে, তাহলে তিনি বলেন, তাদের কওমী মাদ্রাসা ত্যাগ করা উচিত। আমরা আকাবির আছলাফের অনুসারী। মুরুব্বীদের বাতলানো পথেই আমরা চলছি। যারা বিচ্ছিন্নাতাবাদী। তারা নিঃসন্দেহে ভুল পখে পরিচালিত হচ্ছে।

ধন্যবাদ জানাই প্রিয় শায়েখ আব্দুল গাফ্ফার সাহেবকে। এভাবে কওমী অঙ্গনের সকল উলামায়ে কেরাম গর্জে উঠলে কওমীর বিষফোঁড়াগুলো বিতাড়িত হবে। বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মুখোশ জাতির সামনে উম্মোচন হবে বলে আশাকরি। আল্লাহ তায়ালা সকলকে সহী বুঝ দান করুন। আমিন।

লেখক : শিক্ষক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *