শরিক হতে চাই আকাবিরের সেই মিছিলে
মাওলানা ওয়ালীউল্লাহ মাসুদ ● সকল প্রশংসা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের। যিনি আমাদেরকে তার প্রিয় বন্ধু শেষ নবী সাইয়্যিদুল মুরসালিন হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উম্মত হওয়ার তাওফিক দান করেছেন। তিনি পৃথিবীতে চলার জন্য দিয়েছেন পবিত্র কুরআনুল কারীম ও হাদীসে নববী। হাদীসে নববীও পরোক্ষভাবে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের বাতলে দেয়া কথা, যা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
পবিত্র কুরআনুল কারীমে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘তিনি তো নিজের প্রবৃত্তি থেকে কোন কথা বলেন না। তিনি তাই বলেন, যা আল্লাহর পক্ষ থেকে তার অন্তরে আদিষ্ট করা হয়।’ আর তাকে উসুলে হাদীসের পরিভাষায় বলা হয় ওহী-এ গায়রে মাতলু।
এই ওহী-এ গায়রে মাতলু বা হাদীস সমুহকে মুহাদ্দিসীনে কেরাম বিভিন্ন কিতাবে সংরক্ষিত করেছেন। এই সংরক্ষিত কিতাবগুলোর মধ্যে ছয়টি কিতাব সমগ্র মুসলিম জাতির কাছে সবচেয়ে বেশি সমাদৃত। এই ছয়টির মধ্যে বিশুদ্ধতার দিক দিয়ে সর্বশ্রেষ্ঠ পবিত্র বুখারী শরীফ। কিন্তু মানবঘনিষ্ট ফিকাহ বা ইসলামী রীতিনীতি ও আইন-কানুনের দৃষ্টিতে তিরমিযি শরীফের গুরুত্ব অনেক বেশি। এই সুনানে তিরমিযির খতম হবে জামিআ ইকরা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক হাদীস কনফারেন্সে।
পূর্বের যুগে মুহাদ্দিসীনে কেরামের নিয়ম ছিল উস্তাদ পড়াবেন ছাত্র শুনবেন এবং ছাত্র পড়বেন উস্তাদ শুনবেন। যাকে আরবীতে বলা হয় কিরাআত-মাসাআত। যাতে অন্য কোন তাকরির করা হয় না। উপমহাদেশে আমাদের যে সিস্টেমে পড়ানো হয় তাকে দেরায়াতে হাদিস বলা হয়। কিন্তু পূর্বের যুগের মাহাদ্দিসীনের নিয়মকে ফলো করে আমাদের দেশে সাধারণত কিরাআত এবং সামাআত হয় না।
বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম জামিআ ইকরা বাংলাদেশ এবং কর্ডোবা একাডেমি ইউকে এর যৌথ উদ্যোগে পূর্বের যুগের মুহাদ্দিসীনে কেরামের পদ্ধতি অনুযায়ী সুনানে তিরমিযীর খতম হবে। মূলত হাদীস পঠনের এই পদ্ধতি হযরত সাহাবায়ে কেরামের যুগ থেকে চলছিল। বিভিন্ন কারণে আমাদের দেশের পাঠদান পদ্ধতি একটু ভিন্নতর করতে হয়েছে। আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ দা.বা. এর স্লোগান ‘শরিক হতে চাই আকাবীরের সেই মিছিলে’। আল্লাহ তাকে দীর্ঘজীবী করুন।
আকাবিরদের সেই মিছিল হিসেবে সাহাবায়ে কেরাম থেকে চলে আসা পদ্ধতিতেই সুনানে তিরমিযি খতম হবে। আল্লাহ এই মহতি অনুষ্ঠানকে কবুল করুন। আমিন।
লেখক : দপ্তর সম্পাদক, বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা


