১৭ই মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ১৫ই শাওয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

উস্তাদের নেক দৃষ্টিতে আলোকিত যিনি

  • আমিনুল ইসলাম কাসেমী

একটা জিনিস আমি সারাজীবন দেখে আসলাম। আল্লামা কাজি মু’তাসিম বিল্লাহ (রহ.) এর নাম উচ্চারণ করলে কেমন যেন তাঁর প্রিয় শাগরেদ আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ সাহেবের নাম এসে পড়ে। যেমন নাকি শাইখুল হিন্দ মাহমুদ হাসান দেওবন্দী (রহ.) এর নাম উচ্চারণ করলে তাঁর প্রিয় শিষ্য মাওলানা মাদানী (রহ.) এর নাম লিখতে হয়। এঁরা উস্তাদের নেক দোয়ায় জীবনকে আলোকিত করেছেন। সারাজীবন উস্তাদের প্রতি ছিল ভক্তি-ভালোবাসা।

আসলে কী জানেন? এসকল ব্যক্তিগণ উস্তাদের প্রতি এমন ফেদা বা উৎসর্গিত ছিলেন, যেমন নাকি পেয়ারা হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি তাঁর সাহাবাগণ জীবনকে ফানা করে দিয়েছিলেন। যেকারণে কেয়ামত পর্যন্ত তাঁদের সাথে আর কারো তুলনা হবে না। আকাবির-আসলাফগণ এমনই সাহাবাদের অনুগামী। স্বীয় উস্তাদের প্রতি এমন ভক্তি-ভালোবাসা যা কখনো কল্পনা করা যায় না।

আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ একজন বেমেছাল ব্যক্তিত্ব। যিনি পুরোপুরি আকাবির-আসলাফের নকশে কদমে চলেন। তিনি সারাটা জীবন নিজের উস্তাদগণকে মাথায় করে রেখেছেন। কোনো একটা দিনও উস্তাদের খেলাফ চলেননি। তিনি যত উস্তাদের কাছে লেখাপড়া করেছেন, সকল উস্তাদের প্রতি তাঁর অগাধ ভালোবাসা। এই বিগত দুবছর আগেও আমরা দেখেছি, হজব্রত পালন শেষে তিনি বাড়ী ফিরছিলেন ঢাকা ইয়্যারপোর্টে প্রিয় উস্তাদ মাওলানা আশরাফ আলী (রহ.) কে অত্যন্ত আদবের সাথে ধরে ধরে নিয়ে যাচ্ছেন। অথচ আল্লামা মাসঊদ নিজেই তখন অসুস্হ। তাঁর চলার সক্ষমতা ছিল না। তারপরেও প্রিয় উস্তাদের প্রতি ভক্তি-ভালোবাসার নজীর স্হাপন করেছেন।

আজকাল কী অবস্থা আমাদের! উস্তাদের প্রতি আজমত-সন্মান এখন ভুলুন্ঠিত। কোথায় গেল সেই শাইখুল ইসলাম মাদানীর গৌরবময় ইতিহাসের কথা। সে ইতিহাস এ প্রজন্মের ছাত্রদের জানা নেই। জানা থাকলেও আমলে নেই। বড় দুঃখ, অনলাইনে উস্তাদের কলমের উপরে কলম ধরে ছাত্ররা। যে নাকি ইবতেদায়ী পড়ে, কাফিয়া-শরহে বেকায়া পড়ে, তারা বড় বড় মুহাদ্দিস-কলামিষ্টদের সাথে বেয়াদবি করে। সে তাঁর কাছে পড়ে মানুষ হয়েছে, তারপরেও তাঁর সাথে বেয়াদবি করতে দ্বিধাবোধ করে না।

এজন্য আল্লামা মাসঊদ সাহেবের কাছ থেকে শেখার অনেক কিছু রয়েছে আমাদের। এই মহান ব্যক্তির প্রতিটি কথা-কাজে যেন সবক রয়েছে আমাদের। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের ছাত্রদের শিক্ষা নেওয়া দরকার। উস্তাদ এবং বয়োজৈষ্ঠদের প্রতি আদব-ইহতেরামের প্রতি কেমন খেয়াল রাখা চাই, সেটা এসকল মনিষীদের নিকট থেকে এখনো শেখা যাবে।

হিংসার অনলে পোড়া নয়। কারো প্রোপাগান্ডায় কান দেওয়া নয়। অন্তরের চক্ষু খুলে দেখুন। তাঁর সোহবেত বসার চেষ্টা করুন। অনেক বদগোমানীর অবসান হবে ইনশাআল্লাহ। শাইখুল ইসলাম মাদানী (রহ.) এর প্রতি তাঁর সমকালিন জামানার বহু আলেম-উলামার বদগোমানী ছিল। ইশকাল ছিল হাজারো। কিন্তু সকল প্রশ্নের সমাধান হত তাঁর সাহচার্যগ্রহণ করলে। মাওলানা মাদানী এর তিরোধানের পরে জাতি আফোসোস করেছে বারবার। যারা এক সময় বিরোধীতায় ছিল। তারাও নিজের কর্মতৎপরতা এবং চিন্তাধারাকে ভুল প্রমানিত করে শাইখুল ইসলামের চিন্তাধারাকে শ্রেয় বলে ঘোষণা করেছেন।

আমার দৃঢ় বিশ্বাস এবং অভিজ্ঞতার আলোকেই বলছি, কিছু মানুষ যতবারই আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ সাহেবের সিদ্ধান্তবলীকে উপহাস করেছেন, পরে ততবারই তারা নিজেদের ভুল স্বীকার করে আল্লামা মাসঊদ সাহেবের কথা-কাজকে শ্রেষ্ঠত্বের মর্য্যাদায় স্থান দিয়েছেন। অনন্য এক ব্যক্তিত্ব আল্লামা মাসঊদ। যিনি সারাজীবনই অনন্য বৈশিষ্টের অধিকারী। এ যেন খোদার সেরা দান। আল্লাহর অপরিসীম দয়া অনুগ্রহ তাঁর উপর। তিমিরাচ্ছান্ন আঁধার চিরে উম্মতের দ্বারে দ্বারে ঘুরে দাওয়াতের কাজ করে যাচ্ছেন। নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে পথ চলা। আত্মশুদ্ধির বার্তা নিয়ে আলেম সমাজের দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছেন। আমরা আশাবাদী তাঁর সকল রাস্তা মসৃণ হোক। সুন্দর হোক আগামী। আল্লাহ তায়ালা তাঁর হায়াতে বরকত দান করেন। আমিন।

লেখক : শিক্ষক ও কলামিষ্ট

আরও পড়ুন: তাঁর বয়ানে প্রশমিত হয় হৃদয়ের যাতনা

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২২ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com