২৫শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ২৩শে শাওয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

কলব আল্লাহর, তাঁর কাছেই ফিরতে হবে : আল্লামা মাসঊদ

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : কলব আল্লাহর, তাঁর কাছেই ফিরতে হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা ও বেফাকুল মাদারিসিদ্দীনিয়া বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান, শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, মাওলানা সাইয়্যিদ আসআদ মাদানী (রহ.) এর খলীফা, শায়খুল হাদিস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।

তিনি বলেন, কলবে ও মনে অবস্থান কেবল আল্লাহ তায়ালার। আল্লাহ ছাড়া মনে আর কেউ থাকতে পারে না। মনে বাড়ির কথা নয়, খেত-খামারের কথা নয়, ব্যবসা-বাণিজ্যের কথা নয়, দুনিয়াবি কােনো কথা নয় কেবল আল্লাহর কথা রাখতে হবে। আল্লাহ যেভাবে রাজি হন সেভাবে চলতে হবে এবং জীবনকে পরিচালিত করতে হবে।

শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) তাড়াইলের জামিয়াতুল ইসলাহ আল মাদানিয়া ময়দানে তিন দিনব্যাপী ইসলাহী ইজতেমার প্রথম দিন জুমার বয়ানে তিনি এসব বলেন।

আল্লামা মাসঊদ বলেন, আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টিকে ভিত বানিয়ে আমাদের জীবনকে গড়ে তুলতে হবে। আল্লাহকে পেয়ে ধন্য করতে হবে জীবনকে। আল্লাহকে পেতে হলে আমলের জিন্দেগি বানাতে হবে নিছক কথার জিন্দেগি নয়। বর্তমানে নিজেদের জীবনকে সেরেফ কথার জিন্দেগি বানিয়ে নিয়েছি বলে আফসোসও প্রকাশ করেন তিনি।

বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাস আপৎকালীন সময়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার উপর তাগিদ আরোপ করে তিনি বলেন, ইসলামের শিক্ষা হল নিজেদের কর্মকান্ডে কাউকে কষ্ট না দেয়া। সবসময় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে যেন আমার মাধ্যমে কেউ ক্ষতিগ্রস্থ না হয়। এজন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে তা পালনে সর্বাত্মক সচেষ্ট হতে হবে।

বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান বলেন, কেবল হাত পা ছেড়ে বসে থাকার নাম তাওয়াককুল নয়। সর্বোচ্চ সতর্কতাসহ আল্লাহর উপর ভরসা করাকেই তাওয়াককুল বলে। হাদিসে এসেছে, এক সাহাবি রাসুল সা.কে জিজ্ঞাসা করলেন, তাওয়াককুল কাকে বলে? রাসুল বললেন, উটকে দড়ি বেঁধে রাখার পরে আল্লাহর উপর ভরসা হল তাওয়াককুল। সতর্কতা ছাড়া সেরেফ ভরসা তাওয়াককুল নয়।

সতর্কতা অবলম্বন তাওয়াককুলের বিরোধী নয় জানিয়ে ইসলাহী ইজতেমাতে আগত মুসল্লীদের উদ্দেশ্যে আল্লামা মাসঊদ বলেন, বান্দাকে আল্লাহ পরীক্ষা করতে পারেন, কিন্তু বান্দা আল্লাহকে পরীক্ষা করতে পারে না। অসতর্ক হয়ে আল্লাহকে পরীক্ষা করা যাবে না যে, দেখি তিনি কী করেন? এর নাম তাওয়াককুল নয়। তাই করোনার এই আপৎকালীন সময়ে সর্বোচ্চ সতর্কতাসহ আমাদের এখানে অবস্থান করতে হবে।

সাইয়্যিদ আসআদ মাদানী (রহ.) এর খলীফা বলেন, বাংলাদেশি মানুষদের আল্লাহর উপর ভরসা প্রবল। করোনাভাইরাস অসম্ভব শক্তিশালী একটা ভাইরাস। এ পর্যন্ত অসংখ্যবার জিন পরিবর্তন করেছে এ ভাইরাসটি। বিজ্ঞানীরা হয়রান হয়ে গেছে। সর্বোচ্চ সতর্কতা করেও বিজ্ঞানে ও প্রযুক্তিতে শিখরে থাকা দেশগুলো এই ভাইরাসের কাছে পর্যদুস্ত হয়েছে। হাজার হাজার লাখ লাখ মানুষ মারা গেছে ইংলান্ড আমেরিকার মত দেশগুলোতে। সেখানে বাংলাদেশের মত ছোটখাটো একটা দেশের মানুষের এই তুমুল অসতর্কতা সত্ত্বেও মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা খুবই কম। এসবই আল্লাহর উপর এ দেশের মানুষের প্রবল ভরসা ও তাওয়াককুলের কারণে।

এই ইসলাহী ইজতেমা ফেরেশতাদের ঘেরাউয়ের ভেতরে রয়েছে জানিয়ে শায়খুল হাদিস বলেন, বান্দা যতক্ষণ ফেরেশতাদের ঘেরাউয়ে থাকে, ততক্ষণ ফেরেশতারা তার জন্য দুআ করতে থাকেন- ‌‌‌‍’আল্লাহ! আপনি এদেরকে নিজ রহমতের চাদরে মুড়িয়ে নেন, এদের সবাইকে মাফ করে দেন।’ হাদিসে এসেছে, আল্লাহ কিছু ফেরেশতাদেরকে তাদের অপরাপর সব কাজ থেকে মুক্ত করে এইসব বান্দাদের দোআতে ‘আমিন’ বলার জন্য নিয়োগ করে দেন। তারা বান্দার মুখের ও মনের সবধরণের দোআতে আমিন বলতে থাকে। বান্দার চিরকালীন কামিয়াবির জন্য দুইটা জিনিষের দরকার- আল্লাহর রহমত ও তাঁর মাফি যোগ করে আল্লামা মাসঊদ বলেন, ইসলাহী ইজতেমাকে ঘিরে রাখা ফেরেশতারা এ দুই দোআ-ই করছে সবসময়।

ইসলাহের নিয়তে ইসলাহী ইজতেমাতে আগত সকল মুসল্লীদের সময়কে কাজে লাগানোর প্রতি গুরুত্বারোপ করে সাইয়্যিদ আসআদ মাদানী (রহ.) এর খলীফা বলেন, জীবনের প্রতিটা মুহূর্ত আমাদের মূল্যবান। ইসলাহের এই ইজতেমাতে সময়ের পূর্ণ ব্যবহারে আমাদের মনোযোগী হতে হবে। শয়তানের প্ররোচনা থেকে মুক্ত থেকে নিজেদেরকে সবসময় যিকির ও তালিমে নিয়োজিত রাখতে হবে বলেও তাগিদ দেন তিনি।

প্রসঙ্গত, প্রতিবছরই শীতের সময় কিশোরগঞ্জের তাড়াইলের বেলংকা জামিয়াতুল ইসলাহ ময়দানে মানুষের আধ্যাত্মিক পরিবর্তনের প্রত্যাশায় ভাটির মানুষের দ্বীনী উন্নয়নে এই ইসলাহী ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়। ইতোমধ্যেই ব্যাপক সাড়া পড়েছে এই ইজতেমার। এখানে বিশেষ ব্যবস্থায় নারীদের জন্যও আলাদা আলোচনা শোনার সুযোগ আছে। এ ছাড়া শিক্ষার্থী, শিক্ষক, যুবক-তরুণদের জন্যও আলাদা আলাদা বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিদিনই বাইয়াতেরও সুযোগ থাকে। প্রতিবছরই কেউ না কেউ আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদের খেলাফত লাভে ধন্য হন।

শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) শুরু হওয়া এই তিন দিনের ইসলাহী ইজতেমার আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে রোববার (২১‌ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০ টায়।

/এএ

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২২ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com