১৯শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ৫ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ১৫ই জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

খোদাপ্রেমিকদের আন্দোলিত করে যার বয়ান

  • আমিনুল ইসলাম কাসেমী

বয়ান-বক্তৃতা কম হচ্ছে না। পুরো দেশ জুড়ে ওয়াজ মাহফিল হচ্ছে সব সময়। বিভিন্ন মাদ্রাসা-মসজিদে বার্ষিক মাহফিল হচ্ছে। কোথাও ঈসালে সওয়াব মাহফিল। কোথাও আলোচনা সভা। কোথাও সেমিনার। সবখানে কম বেশী দ্বীনি কথা হচ্ছে। দলে দলে মানুষ ভীড় জমাচ্ছে। মন ভরে ওয়াজ শুনছে সবাই।

তবে কিছু মাহফিল আছে ব্যতিক্রমী। যেটার সাথে কোন তুলনা চলে না। তাছাড়া কিছু কিছু ব্যক্তি আছে, যাদের কথায় মানুষের হৃদয় গলে যায়। দূর হয় মনের যাতনা। মনের মধ্যে নতুন কিছু জমা হয়। দীলের মাঝে থাকা শয়তানিয়্যাত দূর হয়ে আবদিয়্যাত এর দিকে ধাবিত করে। তাঁরা এমন কিছু মানুষের সংস্পর্শে নিজেকে তৈরী করেছেন, যারা ছিল সুলাহায়ে উম্মতদের মাঝে অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব। মহান আল্লাহর পেয়ারা বান্দা।

ঠিক সেই রকম মহান ব্যক্তির সোহবতে ধন্য একজন ব্যক্তি হলেন শাইখুল ইসলাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ। যিনি এ জমানার সর্বজনবিদিত এক মনীষা। আওলাদে রাসুল সাল্লাল্লাহ আলাই ওয়া সাল্লামের বংশধর, ফেদায়ে মিল্লাত সাইয়্যেদ আসআদ মাদানী রহ. এর বিশিষ্ট খলিফা।

আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ সাহেবের বয়ান, তাঁর কথাগুলো যেন যাদুমাখা। হৃদয় ছুঁয়ে যায় প্রতিটি বাক্য। মনের অজান্তে যেন তাঁর প্রতি প্রেম-ভালবাসা জন্মে যায়। তাঁর দরদ ভরা কন্ঠে যে ভালবাসার কাব্য তিনি রচনা করে যান, সেটা তো স্রোতাকে ভাবিয়ে তোলে। কোন সুরেলা কন্ঠ নয়। নেই কোন লৌকিকতা। কিন্তু তারপরেও হদয়ের গহীনে গিয়ে আছড়ে পড়ে। খোদাপ্রেমিকদের আন্দোলিত করে বারবার।

উচ্চ আওয়াজ তাঁকে করতে দেখিনি কোনদিন। মিষ্ট কথা। সাবলিল ভাষা-ভঙ্গিমা। আর অতি সাধারণ উপস্থাপনা। অত্যন্ত ব্যাথা আর দরদ নিয়ে কথা বলেন। যেটা সত্যিই প্রেমিকের অন্তরে আঘাত করে। মানুষের বিবেকে নাড়া দেয়। মানুষ আর দিকবিদিক চলে না। তার মাঝে আমুল পরিবর্তন ঘটে। একজন বেমেছাল আলোচক তিনি। দূর থেকে তাঁর প্রতি ভুল ধারণা করে অনেকে। না বুঝে অনেক কথা বলে। কেউ তো সমালোচনায় জুড়ে যায়। কিন্তু তাঁর বয়ানে যদি কেউ বসে। তার সমালোচনার রাস্তা বন্ধ হয়। সে তখন ভক্তি- শ্রদ্ধায় লুটিয়ে পড়ে। দীর্ঘদিনের জমানো বেদনা দূর হয়ে যায়।

সম্প্রতি দেশের সর্বত্র ওয়াজের নামে যেখানে অধিকাংশ মানুষ লৌকিকতার মাঝে ডুবে আছে। রঙঢঙ এ ব্যাস্ত। ফর্মালিটি মেইন্টেন করা তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তেমনি মুহুর্তে তিনি ইসলাহী প্রোগ্রামে মানুষকে জুড়ে দিচ্ছেন। প্রতি মাসে মাসে তাঁর খানকাতে ইসলাহী মজলিস বসছে। এভাবে দেশের বিভিন্ন জায়গাতে তাঁর নিয়মিত কর্মসূচি পালন হচ্ছে।

একজন মর্দে মুজাহিদ ব্যক্তিত্ব। দ্বীনের এই মহান বার্তা নিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে ছুটে বেড়াচ্ছেন। তাঁর সেই যাদুমাখা বয়ানে মানুষকে কাছে টেনে নিয়ে আসতে তাঁর মেধা-শ্রম ব্যয় করে যাচ্ছেন। এই পূণ্যময় কাজে তাঁর কোন জুড়ি হয় না।

হাদীসে আছে, ‘ইন্না মিনাল বয়ানে লা ছিহরা’ কিছু বয়ান আছে যাদুরমত কাজ করে। সত্যি প্রিয় শায়েখের বয়ান তেমনি যাদুরমত মানুষকে টানতে থাকে। মানুষের মন-মগজে পরিবর্তন হতে থাকে। সেই সাথে হৃদয় বিগলিত হতে থাকে আল্লাহ প্রেমিকদের। আগামী ৩ ও ৪ ডিসেম্বর থেকে জামিয়া ইকরাতে শুরু হচ্ছে ইসলাহী ইজতেমা। আবার শুনতে পাব তাঁর সেই হৃদয় ছোঁয়া বয়ান। মনের মাধুরী দিয়ে সাজানো নসীহত গুলো স্রোতাদের মন কেড়ে নেবে। কেউ তো ভাবাবেগে বেকরার হয়ে পড়বে। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি এই ইজতেমাকে ভরপুর কামিয়াব করুন। আমিন।

লেখক: শিক্ষক ও কলামিষ্ট

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২২ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com