২৬শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ২৫শে জিলকদ, ১৪৪৩ হিজরি

জিকিরে দিল সাফ হয়, ঈমানে স্বাদ আসে : আল্লামা মাসঊদ

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : আল্লাহ তাআলার জিকির করার মাধ্যমে দিল সাফ হয়, ঈমানে স্বাদ আসে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, শাইখুল ইসলাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।

কিশোরগঞ্জের তাড়াইলের বেলঙ্কা জামিয়াতুল ইসলাহ ময়দানে তিন দিনব্যাপি ইসলাহী ইজতেমার দ্বিতীয় দিন শনিবার (৫ মার্চ) বাদ এশা আত্মশুদ্ধিমূলক বয়ানে এসব কথা বলেন আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।

জিকিরের ফজিলত বর্ণনা করতে গিয়ে মাওলানা সাইয়্যিদ আসআদ মাদানী (রহ.)-এর এই খলীফা বলেন, দুনিয়াতে যখন কিছু লোক আল্লাহ তাআলাকে রাজি খুশি করার জন্য জিকির করে, তখন আল্লাহ তাআলা একজন ফেরেস্তা নিয়োগ করে দেন, যে এই ঘোষণা দেবে—জিকিরকারীদের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হলো এবং সব গুনাহকে নেকীতে রূপান্তর করা হলো।

দিল সাফ করতে হলে জিকিরের বিকল্প কিছু নেই জানিয়ে শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম বলেন, আল্লাহ তাআলাকে পেতে চাইলে দিল সাফ করতে হবে। আর দিল সাফ করতে হলে বেশি বেশি জিকির করতে হবে। যদি দিল সাফ হয়ে যায়, তাহলে সে দিলের মধ্যে আল্লাহ তাআলার নূর প্রতিফলিত হয়।

আল্লামা মাসঊদ আরও বলেন, বেশি বেশি জিকিরের দ্বারা দিল জিন্দা হয়। আর যে দিলে জিকির জিন্দা হয়—সে দিলে আমলের শওক জিন্দা হয়। সে দিলে কখনো শয়তান বাসা বাঁধতে পারে না, ধোঁকা দিতে পারে না।

কী পরিমাণ জিকির করতে হবে তা জানাতে গিয়ে এই আধ্যাত্মিক রাহবার হাদীসের উদ্বৃতি দিয়ে বলেন, এমনভাবে জিকির করতে হবে যাতে মানুষ তোমাকে দেখে পাগল বলবে। আর জিকিরই একমাত্র ইবাদত, যা আল্লাহ তাআলা বেশি বেশি করার কথা বলেছেন।

অপবিত্র অবস্থায়ও জিকির করা যায় মন্তব্য করে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান বলেন, জিকির এমন একটি ইবাদাত যা অপবিত্র অবস্থায়ও করা যায়। এমনকি কেউ যদি অপবিত্র হয় তার জন্য নামাজ, কুরআন স্পর্শ ইত্যাদি নিষিদ্ধ হলেও সে আল্লাহ তাআলার জিকির করতে পারে। সুতরাং আমাদের উচিত, সর্বাবস্থায় মহান আল্লাহর জিকিরে নিজেকে নিয়োজিত রাখা। তবে এটি জানতে হবে যে, অপবিত্র অবস্থায় জিকির করা থেকে পবিত্র অবস্থায় জিকির করা উত্তম।

দ্বিতীয় দিনের ইজতেমায় জামিয়া আশরাফিয়া খাগডহর মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা তাজুল ইসলাম কাসেমীর সঞ্চালনায় আরও বয়ান করেছেন জামিয়া ফয়জুর রহমান বড় মসজিদ ময়মনসিংহের মুহতামিম মাওলানা আব্দুল হক, আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া ইদরাতুল উলুম মাদরাসা মুহতামিম মাওলানা মুহাম্মাদ আলী, খুলনা মাদানী নগর মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা ইমদাদুল্লাহ কাসেমী, ফিদায়ে মিল্লাত মাওলানা সাইয়্যিদ আসআদ মাদানী (রহ.)-এর খলীফা মাওলানা আব্দুস সুবহান, মাওলানা সাইয়্যিদ আসআদ মাদানী (রহ.)-এর খলীফা মাওলানা আব্দুস সালাম, জামিআ মাদীনাতুল উলুম দারুস সালাম মাদরাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওলানা মঞ্জুরুল হক চৌধুরী, ব্রিটেন থেকে আগত মাওলানা খালেদ হোসাইন, মুফতি আখতার হোসাইন, মাওলানা ইসহাক মুহাম্মাদ আবুল খায়ের, মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক সোবহানী ও কাকরাইল সার্কিট হাউজ মসজিদের খতীব ও জামিআ ইকরা বাংলাদেশের রঈস মাওলানা আরীফ উদ্দীন মারুফ প্রমুখ।

ইজতেমায় আগত মুসল্লীদের মাঝে আগ্রহীরা মাওলানা সাইয়্যিদ আসআদ মাদানী রহ.-এর খলীফা আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ হাতে বায়আত গ্রহণ করেন। বায়আত শেষে মোনাজাতে আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা ও দেশ-জাতি, মুসলিম উম্মাহের জন্য শান্তি ঐক্য কামনা করেন তিনি।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২২ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com